হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি, বেগুন গাছের সাদা মাছির ওষুধ

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,আমাদের আজকের বিষয়: হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি, বেগুন গাছের সাদা মাছির ওষুধ, বেগুন চাষে সার, সাদা মাছি দমনে যা করণীয়।

বেগুন একটি অর্থকারী ফসল। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে বেগুন চাষে আপনি হতে পারেন লাভবান । বর্তমানে অধিক ফলনশীল হিসেবে হাইব্রিড জাতের অনেক বেগুন পাওয়া যায়।হাইব্রিড নতুন জাতের মধ্যে একটি অন্যতম বেগুনের নাম হাইব্রিড বারি-১২। এছাড়াও গ্রীনবল-১ , শুকতারা, ললিতা, গালিভার, হীরা অন্যতম।

কিছু উন্নত জাতের বেগুন এর নাম জেনে নিন: পুসা বার্সাতি, বৈশালি, মনজরী গোটা, আরকা শীল , আরকা নবনি,আরকা কুসুমকর ইত্যাদি।

হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি

বেগুন হলো উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। বেগুন শীতকালে চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বেশি তাপমাত্রায় বেগুন ভালো ফলন দেয় না।

চারা রোপণের চার থেকে পাঁচ বার আগে লাঙ্গল বা মই দিতে হবে। মাটি ঝরঝরে করে নিতে হবে মই দিয়ে। এক থেকে দেড় মাস বয়সের চারা ৭৫ সেন্টিমিটার দূরে সারি করে ৬০ সেন্টিমিটার দূরে রোপণ করতে হবে। প্রতি শতক জমি বা ৪৩৫.৬ বর্গফুট জমিতে ০.৫ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হতে পারে।

চারা রোপণে খেয়াল রাখতে হবে চারা যাতে শুকিয়ে না যায়। এজন্য সেচ দিতে হবে।

বেগুন চাষে সার:

বেগুন চাষে পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করতে হবে। বেগুন গাছ মাটি থেকে বহু পরিমাণে খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে থাকে । চারা বৃদ্ধির প্রথম সময়ের দিকে খাদ্যের অভাব হলে বেগুন গাছের চারা দ্রুত বাড়ে না এবং পরবর্তী সময়ে দেখা যায় ফলনও কমে আসছে।

  • বিশেষ করে শেষ চাষের সময় জমিতে গোবর সার প্রয়োজন হয় ৪০থেকে ৬০ কেজির মতো।
  • টিএসপি প্রয়োজন হবে শতক প্রতি=৭০০ গ্রাম।
  • ইউরিয়া প্রয়োজন হবে শতক প্রতি=১০০০গ্রাম।
  • এম ও পি প্রয়োজন হবে শতক প্রতি =৭০০ গ্রাম।
  • জিপসাম প্রয়োজন হবে শতক প্রতি =৪০০ গ্রাম।
  • দস্তা প্রয়োজন হবে শতক প্রতি=৪০ থেকে ৪৫ গ্রাম।
  • বোরন প্রয়োজন হবে শতক প্রতি=৪০ থেকে ৫০ গ্রাম।

চারা রোপণের পর ১০-১৫ দিন প্রথমবার, ফলন দেয়া আরম্ভ হলে দ্বিতীয় বার এবং ফলন আহরণের মধ্যম সময়ে তৃতীয় বার চারশত গ্রাম করে ইউরিয়া এবং দুইশত গ্রাম করে পটাশ প্রয়োগ করতে হবে।

সাদা মাছির ওষুধ বেগুন গাছে কেন ব্যবহার করা হয়:

হোয়াইট ফ্লাই গাছের পাতার রস চুষে খায়। পোকাগুলো খুব ছোট এবং নরম দেহ বিশিষ্ট হয়।

সাদা মাছি পোকার আক্রমণ হলে গাছের পাতায় হলদেটে দাগ পড়ে যায়। এই পোকা গাছের পাতার রস চুষে নিয়ে গাছকে দুর্বল করে দেয়। যার ফলে গাছের নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়।

এই পোকা যে গাছকে আক্রান্ত করে সেই গাছকে নিস্তেজ করে দিতে সক্ষম হয়। এ ধরনের পোকা পাতার রং কেও বিবর্ণ করে দেয়। তাই সাদা মাছের ওষুধ অভিজ্ঞ কৃষক বেগুন গাছে ব্যবহার করে থাকে।

বেগুন গাছের সাদা মাছির ওষুধ

সাদা মাছি দমনে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক ৮ থেকে ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন ।

ঘন সাবানের পানি স্প্রে করতে পারেন। অথবা নিমবীজের পানি আক্রান্ত গাছে এক সপ্তাহ পর পর স্প্রে করলে পোকা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

পোস্টটি কেমন লাগলো দয়া করে কমেন্টে জানাবেন, যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যয় শেয়ার করবেন, পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর Facebook Group এর সাথেই থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Related Posts

5 Comments

Leave a Reply