আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? প্রিয় পাঠক বন্ধুগন, আজকের আর্টিকেল এ রয়েছে – বাড়িতে মৌমাছি আসলে কি হয়, ইসলাম কি বলে? তো আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।
যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছি বিলিন হয়ে যায়, তাহলে মানব সভ্যতা বেশিদিন টিকবে না। তার মানে, মৌমাছি ছাড়া খুব বেশি দিন টিকে থাকার সময় পাবে না মানুষ।মৌমাছিরা শূন্য হয়ে গেলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
বাড়িতে মৌমাছি থাকলে সুবিধা:
মধু: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- বলেন, সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ট। তাহলে ভাবুন মধু মানুষের জন্য কতটা উপকারী । বাড়িতে যদি মৌমাছি বাসা বাঁধে তাহলে সেখান থেকে আপনারা মধু সংগ্রহ করতে পারবেন।মধুতে রয়েছে ৪৫ রকমের খাদ্য উপাদান।
মধু আমাদের শরীরের জন্য অনেকটাই পুষ্টিকর। মধু এমন একটি খাদ্য যা কখনো পচে না। মধু আমাদের শরীরের তাপ ও শক্তি তৈরিতে অন্যতম ভূমিকা রাখে। গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য মধু খুব উপকারী।
মধুতে যে শর্করা রয়েছে তা খুব সহজেই হজম হয়। এছাড়া মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাথে রয়েছে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। মৌমাছি ছাড়া অন্য কোন পতঙ্গ মধু তৈরী করতে পারে না।
মোম: মৌমাছির মৌচাক থেকে আমরা মোম পাই। মোমবাতি ও বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে মোমের ব্যবহার রয়েছে।
ফসল: মৌমাছি আমাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বর্তমানে মানুষ খাদ্য হিসেবে যেসব ফলমূল ও সবজির ওপর বেশি নির্ভরশীল সেগুলোর প্রায় ৭০% উৎপন্ন হয় মৌমাছির পরাগায়ন থেকে।
পরিবেশ: মৌমাছিকে বলা হয় পরিবেশের বন্ধু।মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়নে সহায়তা করে বন এবং কৃষিজ ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলে।
বাড়িতে মৌমাছি থাকলে অসুবিধা :
মৌমাছি ছোবল বিষাক্ত হয়। বাড়িতে মৌচাক বাসা বাঁধলে এটা কিন্তু চিন্তার বিষয়। কারণ কোন কারণে যদি বাসাটা ভেঙে যায়, তাহলে হাজারো মৌমাছির ছোবল খাওয়ার আশঙ্কা থাকে ।তাই এটি পরিবারের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই বাড়ির মৌচাক আপনার দুর্ভাগ্যেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে অনেক লোকই এটাকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত করে থাকে।
বাড়িতে মৌমাছি আসলে কি হয়, মৌমাছি সম্পর্কে ইসলাম কি বলে:
আল্লাহ তায়ালা মৌমাছিকে একটি বিশেষ জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পাক প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগে পবিত্র কোরআনে মৌমাছি ও মধু সম্পর্কে যা বলেছেন, আধুনিক বিজ্ঞান আজ সেগুলো উদঘাটন করছে।
পবিত্র কোরআনে মৌমাছির নামে একটি সুরা বর্ণিত আছে।
সুরাটির নাম হলো “আন নাহল”। যার অর্থ হলো “মৌমাছি”।এই সুরাটিতে ৬৮ নম্বর আয়াতে বর্ণনা পাওয়া যায়,
“তোমার পালনকর্তা মৌমাছির প্রতি আদেশ করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরি কর।”
এটা আল্লাহপাক মৌমাছিকে আদেশ করেছেন।
এই সূরার পরের আয়াত ৬৯ নম্বর আয়াতে বর্ণনা পাওয়া যায়,
“এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।”
হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, মৌমাছি আমাদের জন্য উৎকৃষ্ট মধু আহরণ করে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মধু খেতে খুব ভালোবাসতেন। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ১২১)।
প্রাণীরা অবশ্যই করুণা ও মমতা পাওয়ার যোগ্য।
পৃথিবীতে জানা-অজানা বিভিন্ন ধরনের জীব-জন্তু আছে। এইসব জীবজন্তুর প্রতি মায়া-মমতা পোষণ করতে হবে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে এক হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ [সহিহ মসুলিম: ২৩১৮]
পোস্টটি কেমন লাগলো দয়া করে কমেন্টে জানাবেন, যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যয় শেয়ার করবেন, পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর সাথেই থাকুন এবং গ্রাথোর ফেসবুক পেইজ ও ফেসবুক গ্রুপ এ যুক্ত থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

মাসাআল্লাহ, সুন্দর লিখেছেন। অনেক ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ ❤️
ধন্যবাদ ❤️
Nice
ভালো পোস্ট। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ
nice
ভালো
ok