দাখিল অষ্টম শ্রেণীর ষষ্ঠ সপ্তাহের আকাইদ ফিকাহ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের উত্তর দেখে নিন এখান থেকে

হ্যালো বন্ধুরা। আজ আমি আপনাদের মাঝে দাখিল অষ্টম শ্রেণি ষষ্ঠ সপ্তাহের আকাইদ ফিকাহ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করতে যাচ্ছি। আপনাদের যাদের প্রয়োজন তারা এখান থেকে নিয়ে নিন।

 

প্রশ্ন: ছোটদের স্নেহ এবং বড়দের সম্মান করা প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান কি?

 

উত্তর:

 

ভূমিকা: বড় চাই সে-বয়সে বা পদে হোক না কেন সব সময় শ্রদ্ধা এবং সম্মান এর। আর ছোটরা সর্বদা সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার দাবি নিয়ে বড়দের পথে পরিচালিত হয়। বড়দের শ্রদ্ধা করলে স্নেহ ভালোবাসা আদর সোহাগ মমতা পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে। আর বড়রা ছোটদের স্নেহ করলে শ্রদ্ধা সম্মান পাওয়া দুষ্কর হবে না। মানবতার ধর্ম ইসলাম আমাদের বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করতে শিক্ষা প্রদান করেছেন। আমাদের প্রিয় নবীর আদর্শ ছিল এটাই। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়দের সম্মান দেখাতেন এবং ছোটদের স্নেহ করতেন আদর ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন। নিজে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

 

 

বড়দের প্রতি সম্মান করা প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান:

 

হাদীস শরীফে এসেছে

আমর ইবনে সুআইব (রা) রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সে আমার দলভুক্ত নয় , যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান জানায় না। আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছে, আমাদের বড়দের অধিকার জানেনা।

 

অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন –

 

যে ব্যক্তি ইসলামের মাঝে বার্ধক্যে উপনীত হয় তার বার্ধক্য কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে।

 

আরেক হাদীসে এসেছে-

 

হযরত আবু মুসা আশআরি রা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন

 

আল্লাহ পাককে সম্মান করা একটি দাবি , বৃদ্ধ মুসলিম কে সম্মান করা ।

 

ছোটদের প্রতি স্নেহ করা প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান:

 

 

ছোটদের স্নেহ ভালবাসা দিতে উৎসাহ করেছেন। হযরত আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন কতক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন আপনারা কি আপনাদের শিশুদের চুমু দেন। সাহাবীগণ বললেন হ্যাঁ। তারা বলল কিন্তু আল্লাহর শপথ। আমরা চুমু দেই না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন , আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়া মায়া তুলে নিয়ে থাকেন তাহলে আমি আর কি করতে পারি।

 

অপর এক হাদীসে এসেছে

হযরত আনাস ইবনে মালিক রা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে শিশুদের প্রতি বেশি দয়াশীল আমি আর কাউকে দেখিনি।

 

অপর আরেক হাদীসে এসেছে ,

 

আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ নাতি হাসান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে চুমু খেলেন। সে সময় তার কাছে আকরা বিন হারেস উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন আমি দশ সন্তানের জনক। কিন্তু আমি কখনো তাদের আদর করে চুমু খাইনি। তখন মহানবী সাঃ তার দিকে তাকিয়ে বললেন যে দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয়না।

 

অপর আরেক হাদীসে এসেছে,

 

আব্দুল্লাহ বিন জাফর রা বলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যখন কোন সফর শেষে বাড়িতে ফিরতেন তখন বাচ্চারা তার আগমনের পথ এগিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে। একবার তিনি তার সফর থেকে এসে আমাকে তার বাহন এর সামনে বসালেন। তারপর আমাদের নিয়ে তিনি মদীনায় প্রবেশ করলেন।

 

উপসংহার:

 

আমাদের নবীর আদর্শ থেকে আমরা শিশুদের ভালোবাসা এবং বড়দের সম্মান এর মধ্যে পরম শিক্ষা পাই। তিনি শিশুদের প্রতি পরম স্নেহ এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। হাদিস দ্বারা তাই প্রমাণিত হয় । অতএব আমাদের উচিত ছোটদের স্নেহ এবং বড়দের সম্মান করা।

Related Posts

5 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.