টিন এজে’র ভালোবাসা : একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা

টিনএজে বলতে কাদের বোঝায় তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। মনস্তত্ত্ববিদরা তাদেরকে আলাদা প্রজাতি হিসেবেই বিবেচনা করে। তারা একই মানুষ হয়েও যেন এই বয়সটায় অন্য একটি প্রজাতি।

এবং তাদের দ্বারা সৃষ্ট উৎপাতকে ব্যাখ্যা করতে রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত উক্তিই স্মরণ করতে হয়– ‘তের চৌদ্দ বছরের ছেলেদের মত এমন বালাই আর পৃথিবীতে নেই।’ তের থেকে ঊনিশ বছরের এই অশান্ত সময়টা সত্যিই এক অসাধারণ রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার প্রতিরূপ।

মানব জীবনের এ সময়টা যেন শত সহস্র রহস্য উন্মোচনের হাতছানি দিয়ে জীবনকে অসীমের পথে নিয়ে যায়।

টিন এজকে বলা হয় ‘হৃদয় মাঝে মন’ জেগে ওঠার সময়।

আর তাই মনের অলিতে গলিতে নানান অনুভূতির আনাগোনা এ সময়। এবং বলা বাহুল্য সে অনুভূতির এক বিরাট অংশ জুড়ে থাকে ভালোবাসা। এ সময়টায় ছেলেরা মেয়েদের প্রতি এবং মেয়েরা ছেলেদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সে আগ্রহের পেছনে অবদান তাদের পরষ্পরের সেক্স হরমোনের।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে টিনদের ভালোবাসার নানা রহস্য।

তাতে দেখা যাচ্ছে, ভালোবাসার জন্য পাগল হয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা ক্ষণে ক্ষণে তাদের মনের মধ্যে জেগে ওঠে কিংবা এমন সব কাণ্ড তারা ঘটিয়ে ফেলে যা পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষের জন্যও করার আগে দু’বার ভাবনার বিষয়, এর পেছনে অবদান রাখছে টিনদের অনন্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং বিশেষ রসায়ন।

মাঝে মাঝে পত্রিকার পাতায় বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো প্রশ্নে ক্লাস টেন বা ইলেভেনে পড়ুয়া এক একজন ছাত্র বা ছাত্রীর তাদের ভালোবাসা নিয়ে করা দুঃসাহসী প্রশ্ন পড়ে আমরা আতকে উঠি– ‘ও মাই গড, কি বলছে এই ছেলে (বা মেয়ে)’! আসলে তারা বলছে না, তাদের দিয়ে বলাচ্ছে তাদের শরীরের অনন্য প্রক্রিয়া।

তাদের হরমোন। এই বয়সে একটি ছেলের শরীরে টেস্টোস্টেরন এবং একটি মেয়ের শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের কাজ শুরু হয়।

আগেই বলা হয়েছে, এ হরমোন দুটি কাজ করে মানুষের স্বাভাবিক জৈবিকতাকে বিকশিত করতে।

এদের কারণেই টিন এজে ছেলে মেয়েরা জীবনের প্রথম জৈবিক উদ্দীপনায় অন্যরকম হয়ে ওঠে।

টিনদের ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর অতিমাত্রায় তীব্রতা।

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় টিনদের ভালোবাসা অনেক বেশি তীব্র এবং আবেগ সঞ্চারী।

একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক প্রেমিক হয়ত তার ভালোবাসার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে দু’বার ভাববে।

কিন্তু একজন টিন প্রেমিকের জন্য এটা কোন বিষয়ই নয়। শুধু একবার ভাবনাটা মাথায় আসলেই হল।

এ কারণেই প্রেমের জন্য আত্মহত্যার নজীর আঠার ঊনিশ বছরের ছেলে মেয়েরাই বেশি স্থাপন করেছে।

তবে এ ভালোবাসা বড়ই স্বল্পস্থায়ী। ব্রিটেনে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, পনের বছর বয়সী প্রেমিকদের হৃদয় ঘটিত দহরম মহরম গড়ে মাত্র তিন বা চার মাস স্থায়ী হয়।

এটা অনেকটা দাউদাউ করে জ্বলা প্রদীপের মত।

খুব তাড়াতাড়িই নিজের তেলটুকু পুড়িয়ে শেষ করে দেয়।

টিন এজের ভালোবাসা সাধারণত দুই ধাপে শেষ হয়ে যায়– জৈবিক প্রেরণা এবং আকর্ষণ।

জৈবিক প্রেরণায় তাদের ভালোবাসাটা শুরু আর পরষ্পরে আকর্ষণের মধ্যে দিয়ে তার সমাপ্তি।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা আসক্তি বা অনুরাগ স্তরে পৌঁছায় না। একারণেই টিন এজের ভালোবাসা এত স্বল্পস্থায়ী।

তবে এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। যতই ক্ষণস্থায়ী হোক টিন এজের ভালোবাসা, এর গুরুত্ব একজন তরুণ প্রেমিকের কাছে অত্যন্ত বেশি।

যতদিন তারা ভালোবাসায় নিমগ্ন থাকে, ততদিন তাদের কাছে এ ভালোবাসাটাই ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের পাড় হয়ে যায় প্রেমিকাকে নিয়ে চিন্তায়।

কথা বলতে বলতে তারা দিনের পর দিন অতিবাহিত করে– হয় ফোনে নয়ত কোন নির্জনে, নিরালায়।

\এই কথা বলাটা টিন এজ ভালোবাসার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

দিনে রাতে যখনই তারা সময় পায়, তখনই পরষ্পরের সাথে কথা বলতে উদগ্রীব হয়ে পড়ে। এর মানে একটাই। ভালোবাসাটাকে তারা গুরুত্ব দেয় খুবই। হোক না সেটা যতই ক্ষণস্থায়ী ।

Related Posts

6 Comments

  1. তাই নাকি, তবুও ভালবাসা তো জীবমের মতই অনিশ্চিত ও অনিবার্য

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.