ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া যৌক্তিক কি না-

কিছুদিন আগে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি দাবি এবং প্রশ্ন বার বার শোনা যাচ্ছে। প্রশ্নটি হলো ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া যৌক্তিক কি না’,, সে প্রশ্নের জবাবে নিঃসন্দেহে বলবো ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তবে কিছু কিছু জায়গায় ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল কলেজ পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। মেডিকেল এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দেশ গড়ার, মানুষের সেবা করার কারিগর তৈরী হয়। সেখানে রাজনীতি করলে তাদের লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ একসাথে দুটো কাজ কখনোই ভালো ফল নিয়ে আসে না। আর স্কুল কলেজ গুলোতে আজকাল ছোট ছোট ছেলেরা রাজনীতির সাথে জড়িয়ে খারাপ কাজ করছে। তারা রাজনীতিটাকে ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহার করে তৈরী করছে বিভিন্ন গ্যাং! যা যুবসম্প্রদায় ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। একারণে আমি বলবো ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি এবং স্কুল কলেজ পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হোক। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্ররাজনীতি বহাল থাকুক। অবশ্যই ছাত্র রাজনীতির দরকার আছে। ছাত্র রাজনীতি না থাকলে ছাত্রছাত্রীরা জিম্মি হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বলার কেউ থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষকরা নিজের ক্ষমতা খাটাতো ছাত্রছাত্রীদের উপর। একারণে আমি মনে করি ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন আছে তবে শুধুমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে।

আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এত বড় নেতা হয়েছেন ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে, তারই সুযোগ্য কন্যা আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এসেছেন ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন ” একটি ঘটনার জন্য পুরো ছাত্ররাজনীতি বন্ধ কোন সমাধান নয়, বুয়েট প্রশাসন চাইল সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে পারে, তবে সারাদেশে বন্ধ করা অযৌক্তিক”। তিনি ছাড়াও আরো অনেক বড় বড় নেতা আজ সফল রাজনৈতিক নেতা হয়েছেন শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির কারণে এবং তারা সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তাদের সময় ছাত্ররাজনীতি হতো শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতি করা হয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য। আমি আহ্বান করব যারা ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত তারা যেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে আদর্শ মানে। কেননা তিনি রাজনীতি করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বেশকিছু ছাত্র সংগঠন সক্রিয়। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যেন সবসময় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ে কথা বলেন। আর যেহেতু বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি রয়েছে তাই ছাত্র সংগঠনদের নিয়ে একটি ছাত্র সংসদ গঠিত হোক তাহলে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে সব সংগঠন ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে। ছাত্রছাত্রীরা কখনোই কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

Related Posts

4 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.