আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনারা কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি। আজকের বিষয়: ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া কি জায়েজ ।
ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া কি জায়েজ
ব্যাংক থেকে কোনো কারনেই ঋণ নিয়ে সুদ দেওয়া জায়েজ হবে না। ব্যাংক ব্যবসা করে চলবে , সুদ নিয়ে নয়। কারণ, আল্লাহতালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম করেছেন। ব্যাংকের মালিক ও কর্তৃপক্ষ যদি গ্রাহকদের সাথে হালাল ব্যবসা ও বিনিয়োগ করেন, তাহলে এর লাভ থেকে তাদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও মুনাফা আসবে। গ্রাহক যদি হালাল উপায়ে লাভবান হয় এতে কোন সমস্যা নেই।
সুদী ব্যাংকগুলোকে সুদ ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা বা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া উচিত। এখন যে ব্যাংকগুলোতে সুদী পদ্ধতিগুলো চলছে সেই সুদী পদ্ধতিতে কোনক্রমেই দারিদ্রতা দূর হবে না।
সুদী ব্যাংক গুলো লাখো মানুষের টাকা চুষে নিয়ে কয়েকজন গ্রাহককে অনেক লাভবান বানাচ্ছে আর ব্যাংকওয়ালারা সম্পদশালী হচ্ছে।
তবে শোনা যায় অন্যান্য সুদী ব্যাংকে তুলনায় ইসলামের পদ্ধতি এমন নয়। ইসলামী ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ সামাজিক সেবা, সম্পদের সুষম বণ্টন ও সকল মানুষের জন্য কল্যানে বিশ্বাসী।
আপনি যদি একজন ইসলামী ধার্মিক ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আমি মনে করি আপনার জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেয়া উচিত হবে না। যত রকমের ব্যাংকিং সিস্টেম আছে ইসলামী ব্যাংক হোক আর যেটাই হোক তারা পুরোপুরি ইসলামী বিধান মেনে চলে না।
ব্যবসাকে ইসলাম ধর্মে সমর্থন করে, এমনকি উৎসাহ দেয়। কিন্তু, ইসলাম ব্যবসায় সুদভিত্তিক লোন নেওয়ার ব্যাপারটি অনুমতি দেয় না। কারণ, সুদ মানুষের জন্য অকল্যাণকর একটি বিষয়। সুদকে আল্লাহ একেবারে হারাম করেছেন। শুকরের মাংস খাওয়া যেমন হারাম তেমনি সুদ খাওয়াও হারাম।
এখন আমাদের ইসলামিক ব্যাংক গুলো কিভাবে লোন দিয়ে থাকে সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা ভালোভাবে যাচাই করে দেখা উচিত। আল্লাহ কিন্তু দেখছেন আপনি হালালভাবে ঋণ গ্রহণের জন্য কেমন চেষ্টা করছেন। আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত এ বিষয়টির জন্য কিভাবে করলে এটা ইসলামিক হবে। কিভাবে ব্যাংকিং সিস্টেম গুলো ফলো করলে সেটা হারাম হবে না। এসব বিষয়ে নজরদারি করা উচিত।
ইসলামের দৃষ্টিতে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ঋণ লেন-দেন :
আমাদের সমাজে বসবাস করতে জীবন যাপন করার জন্য কোন না কোন সময় ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয় যার কারণে আমাদের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
কিন্তু আমরা যে ব্যাংক থেকে ঋণ নিবো বেশিরভাগ ব্যাংক ইসলামিক সভ্যতা বা নিয়ম-নীতিগুলো মেনে চলে না। এ কারণে সমাজে যারা ধার্মিক ব্যক্তি তাদের জন্য খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
আল্লাহ তাআলা সুরা আল বাকারা: ২৮২ নম্বর আয়াতে বলেছেন,
“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া।
এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে।
দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়।
তোমরা এটা লিখতে অলসতা করো না, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই।
তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।”
উপসংহার :
ইসলাম ধর্মে ঋণ আদান-প্রদান আল্লাহ তাআলা বৈধ করে দিয়েছেন। যা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ঋণ গ্রহণ করেছিলেন এমনকি আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় গ্রহন নিয়েছিলেন।
তিনি বিধর্মী দের কাছ থেকেও ঋণ নিয়েছেন। তিনি আমাদের ঋণ মুক্তির দোয়া শিখিয়েছেন। আমরা যদি কোনোসময় ঋণ নিয়ে থাকি তাহলে তা দ্রুত পরিশোধ করার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকলকে সঠিক ভাবে বুঝার তৌফিক দান করুক। “আমিন”
পোস্টটি কেমন লাগলো দয়া করে কমেন্টে জানাবেন, যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যয় শেয়ার করবেন, পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর সাথেই থাকুন এবং গ্রাথোর ফেসবুক পেইজ ও ফেসবুক গ্রুপ এ যুক্ত থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Ok
What is “ok” ?
vai jesob protibondhi baby jonmo nai,tader dos ki? ialamik vabe bolben
Enter your fb account link for your question,,
উপকার হবে
nice
সুন্দর হয়েছে এভাবেই লেখাগুলো দিলে সবার উপকার হবে বলে আমি মনে করি , ইসলামকে জানতে শিখবে যার ফলে ইসলামী নিয়ম নীতি অনুযায়ী কাজকর্ম করায় উৎসাহিত হবে ।
ভাল লিখেছেন
ধন্যবাদ