সক্রিয়ভাবে মনোযোগী হওয়ার উপায়

আপনি যখন পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে যান, তখন নিশ্চয়ই কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোতে শুরু করেন। আমাদের মাঝে কিছু ব্যক্তি আছেন যারা হুটহাট পড়াশোনা শুরু করে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন, এক ধরনের ব্যক্তি আছেন যিনি পরিকল্পনা করেন এবং সেই অনুযায়ী বই হাতে নিয়ে মনোযোগী হতে পারেন, আর এক ধরনের ব্যক্তি উপস্থিত যারা শত পরিকল্পনা সত্ত্বেও পড়াশোনা করতে বসলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না।

যতই পড়াশোনার পরিবেশ বা রুটিন তৈরি করা হোক না কেন, অধ্যয়ন যেন প্রক্রিয়ার অংশই হতে চায় না। আপনি কি এমনই একজন ব্যক্তি যিনি পরিকল্পনার পথ পর্যন্ত-ই থেমে গিয়েছেন? এর একটি কারণ হতে পারে আপনার নিজের-ই মানসিকতা, আপনার অলসতা নয়।

বই বা ই-বুকসমূহে চোখ বুলাতেই রীতিমত এর ফলাফল নিয়ে চিন্তা-ভাবনার জগতে ডুবে যাওয়া যেন অনেকেরই একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। বিশেষ করে যখন মাথায় ঘুরপাক খায় রাজ্যের সকলের মতামত। এটির উপস্থিতি আমরা অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই নেয়। সময় ব্যবস্থাপনা ও একাগ্রতা যেমন মূল বিষয়, এর সাথে একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মস্তিষ্কের আচরণ উপলব্ধি করতে পারা।

অধ্যয়নের সময়ের সর্বাধিক সদ্ব্যবহার করতে মতিষ্কের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এখানে রয়েছে ছয়টি টিপস :

  • আপনাকে মনোনিবেশে সাহায্য করার জন্য যেমন উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা বাঞ্ছনীয় তেমনই উপযোগী শব্দ বা আওয়াজের উপস্থিতি নির্ধারণ করা অপরিহার্য। এর জন্য আপনার মতিষ্ক নিঃশব্দ পরিবেশে বেশি কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়ে কিনা বা বিভিন্ন প্রকারের মিউজিক দ্বারা কাজ পরিচালনায় সহযোগী হতে সক্ষম, তা পরীক্ষা করে যাচাই করার কোনো বিকল্প নেয়। অধ্যয়নের সাথে জরিত এমন বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওসমূহ বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে রয়েছে। তাছাড়া অন্য একটি উপায় হলো আশেপাশের আওয়াজ উপলব্ধি করা। যেমন পাখির ডাক বা ফ্যান চলার শব্দ। এবং সেই অনুযায়ী মনোযোগ ধরে রেখে পড়াশোনা করা।

  • বিভ্রান্তি সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো ফলাফল নিয়ে মনোনিবেশ থেকে বিক্ষিপ্ত হওয়া। অতীত বা ভবিষ্যতের বিভিন্ন চিন্তা বর্তমান উপভোগ করতে একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন মতিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভাবনার জড় হওয়া মেঘ সাথে সাথে সরিয়ে নেওয়া। মনোনিবেশ করে লাভবান হওয়ার সংজ্ঞা ও মূল লক্ষ্য হতে হবে নিজের জ্ঞান অর্জন বা বৃদ্ধি করা। কেউ পরিশ্রম উপলব্ধি করতে উৎসাহিত হোক বা না হোক, নিজের নতুন কিছু জানতে পারার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করা-ই এনে দিতে পারে আত্মতৃপ্তি।

  • সেইদিনের যেকোনো ছোট কাজকে তালিকাভুক্ত করা সময় ব্যবস্থাপনাকে দৃঢ় করতে সাহায্য করে। সময়ের সাথে মনোযোগ এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য।

  • নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সক্রিয়তা বজায় রাখা একটি কার্যকর উপায়। এর একটি উদাহরণ হলো আপনার একটি পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করতে ঠিক কতটা সময় ব্যয় হয় তা উপলব্ধি করা।

  • আমাদের মস্তিষ্ক একাগ্রতার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা মনোযোগ ধরে রাখার জন্য নয়। বিরতি হতে পারে আপনার কাজের সক্রিয়তার সাহায্যকারী। ৪৫ মিনিট অধ্যয়নের পর ১৫ মিনিটের বিরতি পুনরায় ৪৫ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে হতে পারে অতুলনীয় সহযোগী।

  • নিয়মিত ৮-১২ বার পানি পান, সুস্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুম মনোযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আশা করি উপরোক্ত আলোচনার ছয়টি পদ্ধতি অবলম্বন দ্বারা অর্জিত হবে প্রত্যাশিত ও কিছু অবিশ্বস্যনীয় পরিবর্তন। এছাড়াও নিজের মতিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তার আচরণ চিহ্নিত করতে বিভিন্ন উপযোগী পন্থা অবলম্বন করা আমাদের দায়িত্ব। পরবর্তী কাজটির জন্য শুভকামনা।

Related Posts

11 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.