মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে কি ব্যবহার করতে হয়

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক, আজকের আলোচনার বিষয়: মৌমাছি সম্পর্কে, মৌমাছির প্রজাতি, মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে কি ব্যবহার করতে হয় ।

মৌমাছি কি

মৌমাছি হল মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গ বিশেষ । মানুষ প্রতিদিন যে খাবার খায় তার তিনভাগের একভাগ আসে মৌমাছির পরাগাওন থেকে। মৌমাছি মধু ও মোম এবং ফুলের পরাগায়নে জন্য প্রসিদ্ধ একটি নাম।

মৌমাছির প্রজাতি

সাধারণত মৌমাছি বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে। পৃথিবীতে আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। কিছু প্রজাতি সম্পর্কে আলোচনা নিচে করা হলো।

ক/ এপিস ইন্ডিয়া: এ ধরনের মৌমাছিরা গাছের ডালে, বাড়ির কোণে, উঁচু জায়গায় বা গহীন জঙ্গলে মৌচাক বানিয়ে থাকে। এই প্রজাতি মৌমাছিগুলো শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরা বেশি বড় সাইজের হয় না।

খ/ এপিস দোরছাটা: এ প্রজাতির মৌমাছিরা ভালো মধু সংগ্রহ করে থাকে। এই প্রজাতির মৌমাছি বেশিরভাগ পাহাড়ি এলাকাতে বসবাস করে । এ কারণেই এই প্রজাতির মৌমাছিকে রকি মৌমাছি বলা হয়।

গ/ অপিস ফ্লোরেটা: এই প্রজাতির মৌমাছিরা অন্য সকল মৌমাছির তুলনায় ক্ষুদ্র হয়ে থাকে। এজন্য এদেরকে ক্ষুদ্র মৌমাছিও বলা হয়। এরা সাধারনত ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার এর মধ্যে মৌচাক বানায়। এদের মধু উৎপাদন করার ক্ষমতা অনেকটাই কম।

মৌমাছি কামড়ালে কি হয়

একটি মৌমাছির হুলে বিষের পরিমাণ অনেক থাকে। এর হুল ফোটানোর পর কয়েকদিন এর বিষক্রিয়া চলতে থাকে। এ কারণেই মৌমাছির কামড় অত্যান্ত বিষাক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক।
মৌমাছির শরীরে এসিডের উপস্থিতি রয়েছে, যে কারণে মৌমাছি কামড়ালে অনেক যন্ত্রণা ও ব্যথা হয়।

মৌমাছি যেখানে ক্ষত করে সেখানে লালচে ভাব দেখা যায়। লালচে ভাব বেশ কিছুদিন থাকে। মৌমাছি কামড়ের জায়গায় প্রচুর চুলকানি ও ত্বক বিবর্ণ হয়ে যায়।

মৌমাছির কামড়ে অনেক সময় শ্বাস নিতেও কষ্ট হতে পারে। এমনকি রোগী জ্ঞান হারিয়েও ফেলতে পারেন।

মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে কি ব্যবহার করতে হয়

মধু: যদি আপনার বাসায় মধু থাকে তাহলে তুলা বা কোন পরিষ্কার কাপড়ের সাথে একটু মধু দিয়ে আক্রান্ত স্থানে চেপে ধরুন। দেখবেন ধীরে ধীরে ব্যথা কমে যাবে।

তুথপেস্ট: তুথপেস্ট প্রতিটি বাড়িতেই খোঁজ করলে পাওয়া যাবে। আপনি টুথপেস্ট মৌমাছির আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন।মৌমাছি কামড়ালে অনেক যন্ত্রণা ও জ্বালাপোড়ার কষ্ট সহ্য করতে হয়। আক্রান্ত স্থানে টুথপেস্ট লাগালে জ্বালাপোড়া কমার পাশাপাশি মৌমাছির বিষক্রিয়া দূর হয়ে যাবে।

বেকিং সোডা: বেকিং সোডা চুলকানির যন্ত্রণা ও জ্বালাপোড়া কমাতে খুব তাড়াতাড়ি কাজ করে। কারণ বেকিং সোডায় রয়েছে ক্ষারীয় উপাদান। অ্যাসিডিক বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এই বেকিং সোডা।

অ্যান্টিসেপটিক সাবান: মৌমাছি যে স্থানে হুল ফুটিয়েছে সেই জায়গায় অ্যান্টিসেপটিক সাবান ও হালকা গরম জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ব্যথা ও যন্ত্রণা কমানোর জন্য বরফ ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেল: চুলকানি ও ফোলা ভাব কমাতে এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরায় রয়েছে আ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটিক উপাদানে ভরপুর।

রসুন: কয়েকটি রসুন পিষিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। এতে করে জ্বালা নিবারণ হবে। গামছা বা তোয়াল দিয়ে আক্রান্ত স্থানে রসুন পিষে বেঁধে রাখুন।

ব্যথানাশক ওষুধ : ব্যথা কমাতে আইবুপ্রোফেনের এর মতো ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিহিস্টামিন ঔষুধও খেতে পারেন।

এই ছিল মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে কি ব্যবহার করতে হয়? মৌমাছি হুল ফোটালে প্রথমে প্রাথমিক উল্লেখিত প্রাথমিক চিকিৎসার শরনাপন্ন হন। রোগী বেশি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় থাকলে খুব শীঘ্রই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর Facebook Group এর সাথেই থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Related Posts

5 Comments

Leave a Reply