ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও এর বৈশিষ্ট্য

ব্যাংক অবশ্যই একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। একটি দেশের অর্থনীতি কতটা ভালো তা ব্যাংকের অবস্থান বিচার করে বোঝা যায়। পূর্বে যখন ব্যাংকের কোন অস্তিত্ব ছিলনা তখন মানুষ অন্যদের বিভিন্ন সুদে টাকা ধার দিত। তখন এটি প্রচলিত ছিল কারণ মানুষ তখন কম লোভী ছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঋণ দেওয়া ও টাকা ফেরত পাওয়ার এই সরল পদ্ধতি ক্রমশ জটিল হতে থাকে। তখন থেকে মানুষ একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামোর কথা চিন্তা করতে থাকে। পরবর্তীতে এই ভাবেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সূচনা হয়। আজকের লেখায় আমরা জানব একটি ব্যাংকের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমূহ। প্রথমত, ব্যাংক টাকার লেনদেন করে থাকে আমরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখি ব্যাংক সেই টাকার উপর আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে যার ফলে কোন রকম ঝুঁকি ছাড়া আমরা ব্যাংকে টাকা রেখে সেই টাকা বৃদ্ধি করতে পারি। আবার আমাদের যখন টাকার প্রয়োজন পড়ে তখন আমরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারি, একটি নির্দিষ্ট সুদ হার প্রদানের মাধ্যমে তবে আমাদের সেই টাকা আবার; ফেরত দিয়ে দিতে হয়। দ্বিতীয়তঃ ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে। ব্যাংক প্রধানত আমানতকারী হতে আমানত সংগ্রহ করে এবং তা বিনিয়োগকারীকে সরবরাহ করে। ব্যাংক হতে ব্যবসায়ীরা টাকা ঋণ হিসাবে নেই এবং সে টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করে এবং ব্যবসা হতে অর্জিত মুনাফার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের লোন দিয়ে থাকে যেমন বাড়ি নির্মাণের জন্য লোন গাড়ি লোন পড়াশোনার জন্য লোন বিয়ের জন্য লোন ইত্যাদি।তৃতীয়তঃ ব্যাংক অর্থ উত্তোলন এবং প্রদানের ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে ব্যাংকের বিভিন্ন সার্ভিস যেমন এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং, আরটিজিএস, বিএফটিএন, ফান্ড ট্রানস্ফার পে অর্ডার করা ইত্যাদি মাধ্যমে ব্যাংক অর্থ উত্তোলন ও প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চতুর্থ বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় আই ব্যাংকিং তথা ইন্টারনেট ব্যাংকিং এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে আই ব্যাংকিং এর মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসেই ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করতে। ব্যাংক এখন বিভিন্ন রকম অ্যাপস বের করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহক খুব সহজে যেকোনো ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারে।পঞ্চমত, ব্যাংক দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের শাখা খুলে থাকে এবং প্রায় প্রতিটি ব্যাংক এখন অনলাইন সার্ভিস প্রদান করে থাকে যার ফলে দেশের যেকোনো একটি স্থান হতে অন্য স্থানে মানুষ সহজে টাকা পাঠাতে পারে এটি টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়। ষষ্ঠতঃ সরকার বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হতে লোন নিয়ে থাকে সরকারি বাজেট ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে সরকার এটি করে থাকে। ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করে থাকে যেমন আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে ব্যাংক এলসি খোলা থাকে। ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসী ভাইরা তাদের পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে। এটি শুধুমাত্র তাদের পরিবারের কাজে লাগে তা নয়, এটির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ে যা আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে যার ফলে আমানতকারীদের টাকা সুরক্ষিত থাকে এবং যাদের টাকা লোন হিসেবে দেওয়া হয় সেই টাকা ঠিকমতো ফেরত আসছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হয়। ব্যাংক আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা বিনিয়োগকারীদের প্রদান করে এবং মাঝখানে ব্যাংক কিছুটা লাভ করে সেই লাভ দিয়েই ব্যাংকার ব্যবসা পরিচালনা করে সুতরাং আপনি যদি মনে করে থাকেন আপনার টাকা ব্যাংকের লকারে পড়ে থাকে তাহলে সেটি আপনার ভুল ধারণা হবে।

Related Posts

9 Comments

Leave a Reply