আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আনেক ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি নতুন টপিক নিয়ে হাজির হয়েছি। তো আজকে আমি আপনাদের সামনে বিড়াল রিলেটেড একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি (যেমন: বিড়াল অসুস্থ হলে করণীয়, ছেলে বিড়াল চেনার উপায়)। তো আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।
কালো বিড়াল নিয়ে হাদিস
কালো বিড়াল নিয়ে ওইরকম কোনো হাদিসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কালো বিড়ালকে অশুভ হিসেবে বিবেচনা করে। কিভাবে এর শুরু হয়? মূলত ইউরোপ-আমেরিকা সাহিত্য-রূপকথায় কালো বিড়ালকে খারাপ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। তারপর সারাবিশ্বে কালো বিড়ালকে অলৌকিক কাহিনী আরম্ভ হয়।
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে কোনো ভালো কাজ করতে যাওয়ার সময়ে কালো বিড়াল দেখলে সেটি অশুভ ইংগিত প্রদান করে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নেই। এটিও অন্য দশটি বিড়ালের মতোই শুধু পার্থক্য হচ্ছে এটি কালো ঠিক যেমন মানুষের মধ্যে ফর্সা বা কালো রয়েছে। এসব অস্বাভাবিক কাহিনীর কোনো প্রমাণ নেই এবং বিজ্ঞানও এসব বাজে কুসংস্কারকে সমর্থন করেনা। আমার নিজের বাসায়ও একটি কালো বিড়াল আছে।
বিড়াল অসুস্থ হলে করণীয়
প্রথমে আপনাকে আগে বুঝতে হবে বিড়াল অসুস্থ হলে তার লক্ষণ কি কি থাকে। বিভিন্ন রোগের লক্ষণ বিভিন্ন হয়। নিচে কিছু অসুস্থ হলে সম্ভব্য সাধারণ লক্ষণ দিয়ে দিচ্ছিঃ
১. অসুস্থ হলে বিড়ালদের একটি সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে খাবারের প্রতি অরুচি। অনেক সময় খাওয়া একদমই ছেড়ে দেয়।
২. আগের তুলনায় বেশি ঘুমায়।
৩. একটু দুর্বল দুর্বল থাকবে। মানে ধরেন আগে বিড়ালটি যেরকম খেলাধুলা করত এখন তার চেয়ে অনেক কম করে।
৪. ঘন ঘন বমি করে।
৫. কিছু কিছু ক্ষেত্রে হালকা থেকে মোটামুটি সর্দি-কাশি থাকতে পারে(বিশেষ করে ফ্লু হলে)
এগুলো ছিল কতিপয় সাধারণ লক্ষণ। যদি আপনার বিড়াল অসুস্থ হয়েছে বলে আপনার মনে হয়। তাহলে কি করবেন? সবচেয়ে ভালো হবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে। নিজে নিজে না বুঝে ওষুধ খাওয়াতে যাবেননা। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই অসুস্থ হলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন কারণ যেকোনো ধরণের রোগ হতে পারে।
আর যদি কমন কোল্ড হয় তা চাইলে আপনি নিজেই বাসায় বসে চিকিৎসা করতে পারেন। এটি হচ্ছে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত সিজ বা ঋতু পরিবর্তন হলে হয়। বিড়াল এই রোগে আক্রান্ত হলে তাকে অন্যান্য বিড়ালের কাছ থেকে আলাদা রাখুন ও একটি উষ্ণ স্থানে রাখুন।
এসময় বিড়ালটির ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। নাক থেকে তরল বের হলে তা মুছে দিন। এসময় অরুচি দেখা দিতে পারে। অরুচি দেখা দিলে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। এজ রোগ সাধারণত এমনিই কয়েকদিন পর ঠিক হয়ে যায়। তাই ওরকম চিন্তার কিছু নেই।
বিড়াল মারা গেলে কি করতে হয় ? বিড়াল অসুস্থ হলে করণীয়
আসলে বিড়াল মারা গেলে তার অনুভূতি কেমন তা আমার জানা আছে। যখন আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, যার সাথে অনেক হাসি কান্নার অনুভূতি শেয়ার করেছেন, যার সাথে জীবনের একটি বড় অংশ পার করেছেন সে মারা হেলে কেমন লাগবে? ঠিক তেমনই লাগে যখন আপনার প্রিয় বিড়ালটি মৃত্যুবরণ করে।
কিন্তু কিছু তো আর করার নেই। এই বিশ্বের সবকিছুরই একটা শেষ আছে। বিড়ালটির মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আপনার সাথে রাখুন। হয়ত বিড়ালটির কষ্ট দেখে আপনার খারাপ লাগবে আর সহ্য করতে পারবেননা। বিড়ালটি মরে গেলে মাটিতে পুতে ফেলা উচিত। এতে আপনার কোনো টাকা খরচ হবে না।
কিন্তু এর জন্য আপনার খালি জায়গা বা বাগান লাগবে। তাছাড়া অনেক জায়গায় শুনছি পুড়িয়ে ফেলার কথা। পুড়িয়ে ফেলতে পারেন যদি আপনার বাড়িতে কোনো খালি জায়গা বা বাগান না থাকে সেক্ষেত্রে।
ছেলে বিড়াল চেনার উপায়
বিড়ালের লিঙ্গ চেনার কিছু ধাপ রয়েছে। নিচে এগুলো দিচ্ছি।
প্রথমে বিড়ালের সাথে সাবধানতা অবলম্বন করুন। নিশ্চিত করুন যে বিড়ালটি স্বাচ্ছন্যবোধ করছে। কারণ অনেক বিড়াল এসব পছন্দ করে না। বিড়ালটির লেজটি তুলে ধরুন। পুরুষ বিড়ালের যৌনাঙ্গ সনাক্ত করুন। কিছু সহজ উপায়ে তা করা যায়।
পুরুষ বিড়ালের যৌনাঙ্গে মলদ্বার, স্ক্রোটাম এবং লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যখন স্ত্রী বিড়ালের যৌনাঙ্গে কেবল মলদ্বার এবং মূত্রনালী খোলার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
একটি পুরুষ বিড়ালের স্ক্রোটামের পশম থাকে যা দুটি অণ্ডকোষকে আচ্ছাদিত করে এবং এর আকার ছোট থেকে শুরু করে চেরি পর্যন্ত বিশাল। অণ্ডকোষটি একটি চামড়ার থলি যা পিছন থেকে প্রসারিত হয়। ক্ষেত্রে যেখানে পশম দীর্ঘ এবং ঘন হয়, যৌনাঙ্গগুলি পরিষ্কারভাবে দেখা খুব কঠিন, অণ্ডকোষকে আরও দৃশ্যমান করার জন্য পশমটি ভেজা হতে পারে।
পুরুষ বিড়ালদের মলদ্বার এবং মূত্রনালী কমপক্ষে 2.5 সেমি দূরে বা একটি মেয়ে বিড়ালের জন্য 1.3 সেন্টিমিটার দূরে।
বিড়াল আচর দিলে করণীয়
বিড়াল আচর দিলে এর মাধ্যমে আপনার মধ্যে বিড়ালটির বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। এমনকি বিড়ালটির মাধ্যমে আপনি জলাতঙ্ক এ আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত বিড়াল আছর দিতে ওরকম কিছু হয়না। তবুও আপনাকে সচেতন হতে হবে। আচর দিলে প্রথমে দেখুন আপনি কতটুকু আহত হয়েছেন।
আপনি যদি ওই আচরে কোনো ব্যাথা অনুভব না করলেও অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে আচরের স্থানটি ধুয়ে নিন। আর একটু জ্বালা পোড়া করলে আপনি লাইজল বা ওই জাতীয় দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন। যদি আচরের পর আপনার জ্বর অনুভব হয় তাহলে ডাক্তারের কাছে যান। তাছাড়া জলাতঙ্ক থেকে বাঁচতে হলে আগে থেকে জলাতঙ্ক এর টিকা নিয়ে নিতে পারেন।
তো আজকের জন্য এতটুকুই। পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আবার কয়েকদিন পর আপনাদের সামনে নতুন কোনো টপিক নিয়ে হাজির হবম ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সেই কামনায় আজকের জন্য বিদায় জানাচ্ছি। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর Facebook Group এর সাথেই থাকুন।

nice
nice
Thanks
Ok
ও আচ্ছা
বেশ ভালো পোস্ট।
Nice
👍
ok