পুঁজিবাজার কাকে বলে? জেনে নেই শেয়ারবাজার সম্পর্কে

আসসালামু আলাইকুম।কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালো আছেন।আমরা সকলেই চাই ভালো থাকতে ভালো মতো জীবন যাপন করতে।আর সেই জন্য আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো অর্থ মানে টাকা।বর্তমানে পৃথিবীতে সকলে চায় টাকা আয় করতে। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার জন্য ভবিষ্যতে অর্থ সঞ্চয় করার জন্য মানুষ আগে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতো। কিন্তু বর্তমানে রাতারাতি বড়লোক হবার তীব্র নেশায় মানুষ এখন পুঁজিবাজারে অর্থ সঞ্চয় করে থাকে। এই ক্ষেত্রে অনেকের লাভ হলেও তীব্র ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। পুঁজিবাজার কাকে বলে?

এখন সকলের মনে প্রশ্ন হতে পারে পুঁজিবাজার কি? এখানে কি করা হয়? কিভাবে টাকা সঞ্চয় করা হয়।চলুন জেনে নেই পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিস্তারিত। পুঁজিবাজারকে শেয়ারবাজারও বলা হয়।বাংলাদেশে দুটি শেয়ার বাজার রয়েছে।একটি হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। শেয়ারবাজারে যে শুধুমাত্র ব্যক্তিবিশেষ টাকা জমা দেয় তা কিন্তু নয়।বিভিন্ন নামি দামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও শেয়ার বাজারে টাকাজমা দিয়ে থাকে।এখন আসি শেয়ারবাজার কি?কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন ব্যক্তি বেশি মূলধন পাবার উদ্দেশ্য তার প্রাথমিক মূলধনকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে যখন জনগনের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয় কিংবা জমা রাখা হয় যে স্থানে সেই স্থানটি শেয়ারবাজার কিংবা পুঁজিবাজার বলা হয়।

এখন নিশ্চিত শেয়ারবাজার সম্পর্কে। চলুন জেনে আসি শেয়ারবাজারে কারা অর্থ কিংবা সম্পদ জমা করতে পারবে।শেয়ার বাজারে ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিই মজুদ অর্থ কিংবা সম্পদ কেনা বেচা অদল বদল করতে হবে।শেয়ারবাজারে টাকা জমার কিছু নিয়ম সম্পর্কে চলুন জেনে আসিঃ

১.বয়স ১৮ থেকে শুরু করে যে কোন ব্যক্তি শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনা বেচা করতে পারবে।

২.ব্যক্তির যেকোনো ধরনের সঞ্চয় ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।

৩.সেই সঞ্চয়ী ব্যাংকের হিসাবের বদলে তার সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি অফ বাংলাদেশ টিমিটেডের ওউনার এর অধিনে বেনিফেসিয়ারি ওউনার একাউন্ট খুলতে হবে।

৪.বিও একাউন্ট খোলার পর বিনিয়োগকারী প্রাথমিক কিংবা প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
শেয়ার বাজার সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে। তা হলোঃ

১.প্রাইমারি শেয়ার বাজার।
২.সেকেন্ডারি শেয়ার বাজার।

১.প্রাইমারি শেয়ার বাজারঃ
শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম ধাপ হলো প্রাইমারি শেয়ার বাজার।সব ছোট বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি বিশেষের শেয়ার বাজারে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে প্রাইমারি শেয়ার বাজার দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।এখন জেনে আসি প্রাইমারি শেয়ার বাজারের কাজটা কি?কোন প্রতিষ্ঠান কিংব ব্যক্তি বিশেষ যখন শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে তখন তার অর্জনকারী সম্পদ এক একটি শেয়ার হিসেবে গণ্য হয় এবং তার একটি নির্দিষ্ট ফেইস ভ্যালু থাকে।ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি শেয়ারবাজার ছাড়ার পরিকল্পনা করে থাকে তখন তার শেয়ারের সাথে তখন সেই ফেস ভ্যালুর সাথে প্রিমিয়ম যোগ করে একটি নির্দিষ্ট অফার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসইসি বাজারে সেই শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন কিংবা প্রজ্ঞাপন জারি করে থাকে।মূলত এটিই প্রাইমারি শেয়ারের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২.সেকান্ডারি শেয়ারঃ
প্রাইমারি শেয়ারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সেকেন্ডারি শেয়ারকে গণ্য করা হয়।প্রাইমারি শেয়ারে বিক্রিত শেয়ারই সেকেন্ডারি শেয়ারে প্রবেশ করে।তবে সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে শেয়ার বিজনেসের ফান্ডামেন্টাল কিংবা ট্যাকনিকাল দিক সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।যদি ভালো ধারণা লাভ করতে পারেন তাহলে আপনি অধিক লাভবান হতে পারবেন।

তবে আমার মতে আনাড়ি জ্ঞান নিয়ে শেয়ার বাজারে প্রবেশ না করাটাই কল্যাণকর।এতে লাভের থেকে ক্ষতির আশংকাই বেশি থাকে।লোকে মুখে জেনে অনেকে সেকেন্ডারি শেয়ারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। শেয়ার বাজারে বিজনেস করতে হলে আপনাকে পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে আগে থেকেই।সেই সাথে নিয়মিত শেয়ারবাজারের খোঁজখবর রাখতে হবে।ধন্যবাদ সবাইকে।
ঘরে থাকুন
সুস্থ থাকুন

Related Posts

17 Comments

Leave a Reply