নবম দশম শ্রেণির ব্যবসায় উদ্যোগ বই এর নবম অধ্যায় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই ??আশা করি ভাল আছেন।

আজকের পোস্ট টা হচ্ছে  সেই সকল শিক্ষার্থীদের জন্য যারা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে নবম-দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন।

আমি আজকে আলোচনা  করব ব্যবসায় উদ্যোগ বইয়ের নবম অধ্যায় সম্পর্কে।

তাহলে শুরু করা যাক।

প্রথমে জ্ঞানমলক কিছু প্রশ্ন আমি এখানে উপস্থাপন করব:

১. ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য কি?

উঃ ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন।

২. ব্যাংক কি?

উঃ ব্যাংক হল এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থ  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যা আমানত হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে, ঋণ দেয় ও বিভিন্ন ব্যাংক সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করে।

৩. বাংলাদেশী কোন ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত?

উঃ বাংলাদেশের শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত।

৪. শাখা ব্যাংক কি?

উঃ এক বা একাধিক শাখার মাধ্যমে একটি প্রধান কার্যালয়ের অধীনে, অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যাবলী সম্পাদন করে, তাকে শাখা ব্যাংকিং বলে।

৫. চেইন ব্যাংকিং কি?

উঃ যৌথ মালিকানায় নিজ নিজ স্বত্বা অক্ষুন্ন রেখে যখন সহজ ভাবে ব্যাংকিং কার্যাবলী সম্পাদন করা হয় তখন এ ব্যবস্থাকে চেইন ব্যাংকিং বলে।

এবার কিছু অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি::

১. ব্যাংকিং ব্যবসার ভিত্তিমূল কোনটি ?ব্যাখ্যা করো।

উঃ ব্যাংক ও গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসই হলো ব্যাংকিং ব্যবসায় ভিত্তিমূল।

আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক মূলত সততা, নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়। এর ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে। তেমনি গ্রাহকও তাদের আমানত ব্যাংকে গচ্ছিত রাখে। এই সম্পর্কের অবনতি হলে ব্যবসারও অবনতি ঘটে। তাই এই সম্পর্ককেই ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ভিত্তিমূল বা মূলমন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

২. গ্রুপ ব্যাংকিং বলতে কী বোঝায়?

উঃ দুই বা ততোধিক ব্যাংক  একটি শক্তিশালী ব্যাংকের অধীনে একত্রিত হয়ে বৃহৎ আকারে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের কার্যক্রম চালালে তাকে গ্রুপ ব্যাংকিং বলে।

যে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে গ্রুপ পেন্টিং পরিচালিত হয় তাকে হোল্ডিং, ব্যাংকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোকে সাবসিডিয়ারি ব্যাংক বলে। এক্ষেত্রে হোল্ডিং ব্যাংক মালিকানার ৫১% এর বেশী শেয়ার  হোল্ড করে।

৩. ব্যাংক কিভাবে বিনিয়োগের মাধ্যম সৃষ্টি করে ?ব্যাখ্যা করো।

উঃ বিনিময়ে মাধ্যম বলতে সে সকল মাধ্যমিকেই বোঝায়, যা মুদ্রার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ব্যাংক আর্থিক লেনদেন ও দেনাপাওনা নিষ্পত্তির জন্য চেক, বিনিময় বিল, প্রত্যয়ন পত্র ,ব্যাঙ্ক ড্রাফ্ট, পে-অর্ডার ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।এগুলোকে চাইলে যে কেউ ব্যাংকে জমা দিয়ে নগদায়ন করতে পারবে।কারন এ সকল দলিল ব্যাংকে মুদ্রার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসকল মাধ্যম বা দলিল সৃষ্টির মাধ্যমেই ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।

৪. ব্যাংকের স্বচ্ছলতার নীতি বলতে কী বোঝায়?

উঃ ব্যাংকিং ব্যবসায় ঝুঁকি হ্রাসের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মূলনীতি হলো স্বচ্ছলতা নীতি।

সচ্ছলতা বলতে দায় পরিশোধের ক্ষমতাকে বোঝায়। অন্যের অর্থ নিয়ে ব্যবসা করায় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হয়। আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে ব্যাংক দেউলিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনে ব্যাংক যে নীতি ব্যবহার করে থাকে তাকে সচ্ছলতা নীতি বলে।

৫. ব্যাংকিং কার্যক্রমে আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রয়োজন কেন ?ব্যাখ্যা করো।

উঃ ব্যাংকিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন।

ব্যাংকের আর্থিক স্বচ্ছলতা বলতে চাহিবামাত্র আমানত পরিশোধের জন্য ব্যাংক এর হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ আছে কিনা তা বোঝায়। ব্যাংক আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হলে দেশের আইন বলে দেউলিয়া ঘোষিত হতে পারে। আবার গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা অত্যন্ত জরুরী।

 

আজ এই পর্যন্তই দিলাম। আশা করি একটু করে হলেও সকলের উপকারে আসবে। লকডাউনে পড়াশোনা একবারে হচ্ছে না কারোই ।এরকম ছোট ছোট কিছু প্রশ্নের উত্তর পড়ার মাধ্যমে আমাদের জ্ঞান অনুধাবন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

পরবর্তীতে আমরা আমাদের এই জ্ঞান শিক্ষা জীবনের পরবর্তী ধাপগুলো তে কাজে লাগাতে পারবো। পরবর্তী পোস্টে নতুন একটি টপিক সম্পর্কে আলোচনা করব।

সে পর্যন্ত সকলে ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করবেন।

সবাইকে ধন্যবাদ ।

আল্লাহ হাফেজ।।

Related Posts

2 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.