জমি খারিজ করার পদ্ধতি, মিউটেশন

জমি খারিজ করার পদ্ধতি: জমি কেনার পর অথবা ওয়ারিশ সুত্রে জমি পাওয়ার পর অন্যতম গুরুত্ব পূর্ণ কাজ হল উক্ত জমিটি আপনার নামে নামজারি করানো । নামজারি না করলে পরবর্তীতে জমিটি বিক্রয়, রেজিস্ট্রেশন এবং খাজনা প্রদান সহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হবে । তাই জমি হস্তান্তর হওয়ার পর নামজারি করা অনেকটাই বাধ্যতামূলক হয়ে দাড়িয়েছে ।

জমির ই নামজারি আবেদন এখন অনলাইনে করতে পারবেন। সরাসরি ভুমি মন্ত্রনালয় এর আবেদন লিংক: https://mutation.land.gov.bd/application এই লিংকে গিয়ে আপনি অনলাইনে নিজেই ই নামজারি আবেদন করতে পারবেন। নিচে মেনুয়াল নামজারি প্রসেস এর নিয়মাবলী দিলাম।

নামজারির জন্য আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র

১। ক্রয়সূত্রে মালিক হলে উক্ত দলিলের সার্টিফায়েড কপি।
২। ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা লাভ করলে অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদ ।
৩। বায়া দলিলের ফটোকপি
৪। জমির সবগুলো খতিয়ানের ফটোকপি ।
৫। ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।
৬। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্বের সনদ ।
৬। ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা রসিদ ।

কোথায় নামজারির জন্য আবেদন করতে হবে?

উপজেলা ভূমি অফিসে অথবা আমরা যাকে এসি ল্যান্ড অফিস নামে জানি সেখানে নামজারির জন্য আবেদন করতে হবে ।

কিভাবে নামজারির জন্য আবেদন করতে হয়?

প্রথম ধাপ: প্রথমে নামজারি করার জন্য  নিদিষ্ঠ একটি ফর্ম আছে যা আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে ।

দ্বিতীয় ধাপ: উক্ত ফর্মটি সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারেন অথবা ইনন্টারনেট থেকেও ডাউনলোড করতে পারেন  ।  উক্ত ফরমটি নির্ভুলভবে পূরন করতে হবে । এতে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, রেজিস্ট্রি ক্রয় দলিলের নাম্বার ও সাল , BS, ES, SA  খতিয়ান নাম্বর ও দাগ নাম্বর ইত্যাদি তথ্য স্পষ্টভাবে দিতে হবে । আবেদন পত্রের একেবারে শেষে নিজের নাম ও মোবাইল নাম্বারটি দিতে হবে । এবার আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি আবেদন পত্রের উপর সংযুক্ত করতে হবে এবং অন্য সকল কাগজপত্র একত্রে সংযুক্ত করে হেল্পডেক্স –এ জমা দিতে হবে । সেখান থেকে আপনাকে একটি রসিদ দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সাক্ষাতের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে ।

তৃতীয় ধাপ: আপনার আবেদন প্রেরণের সাধারনত ২০ কার্যদিবসের মধ্যে এসিল্যান্ড অফসে আপনি বা আপনার উপযুক্ত প্রতিনিধিকে ডাকবে । সেখানে আপনার আবেদনের সাথে যে সমস্ত কাগজপত্র দাখিল করেছিলেন তাঁর মূল কপি ভূমি কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে ।

চতুর্থ ধাপ: এ পর্যায়ে আপনার আবেদন প্রাথমিকভাবে যথার্থ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য পক্ষদেরকে আপত্তি দাখিলের জন্য নোটিশ করা হয় এবং শুনানীর দিন ধার্য করে দেওয়া হয় । অর্থাৎ সকল কাগজ পত্র ঠিক থাকলে এসি ল্যান্ড এই জমির সাথে সম্পৃত্য কোন পক্ষের এই নামজারি সম্পর্কে কোন আপত্তি আছে কিনা তা জানতে তাদের একটি নোটিশ করবে । এখানে পক্ষ গুলো হতে পারে জমির বিক্রেতা ওয়ারিশি সম্পত্তি হলে অন্যান্য ওয়ারিশ আছে কিনা ইত্যাদি ।

পঞ্চম ধাপ: শুনানীর দিন কোন আপত্তি পাওয়া গেলে এসি ল্যান্ড উভয় পক্ষের আপত্তি শুনবেন এক্ষেত্রে এসিল্যান্ডে নামজারির আবেদন অনুমোদন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন । শুনানীর দিন কোন আপত্তি না পাওয়া গেলে সর্বশেষ এসিল্যান্ডে নামজারির জন্য চুড়ান্ত অনুমোদন করে থাকেন । আপনার নামজারির আবেদনটি চুড়ান্ত হয়ে গেলে আপনাকে মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানানো হবে । এ পর্যায়ে আপনি এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে নামজারির ফি পরিশোধ করে নতুন খতিয়ানটি সংগ্রহ করতে পারবেন । এভাবেই নামজারির প্রকৃয়া সম্পন্ন হয় ।

নামজারি সম্পন্ন হতে কতদিন সময় লাগতে পারে ?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মহানগরে ৬০  কর্মদিবসে এবং মহানগরের বাহিরের এলাকাগুলোতে ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে নামজারির- প্রকৃয়া সম্পন্ন করার নিয়ম করা হয়েছে ।

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। Grathor ফেসবুক গ্রুপ: https://facebook.com/groups/grathor.official/

Related Posts

10 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.