হিংসের পরিণতি অনেক ভয়াবক

হিতেন ও বাতেন দুই বন্ধু। তারা দুই জোনেই ছিল কাছের বন্ধু। সেই দুই বন্ধু প্রত্যেক দিনই একে অপরকে সাহায্য করতেই থাকে। কিন্তু তাদের এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ত একজন পছন্দ করতোনা। সে হচ্ছে, তাদেরি ক্লাসের বন্ধু রাসেল। সে সবসময় একাই বাতেনের বন্ধু হতে চাইতো।

কিন্তু বাতেন চাইতো তার অনেক বন্ধু যেন থাকে। আর এদিকে রাসেল অনেক হিংসে করতো হিতেনের ওপর। রাসেল শুধু হিতেনকে কীভাবে বাতেনের কাছ থেকে দূরে পাঠিয়ে দিতে হয় তাই ভাবতো। একদিন রাসেল ভাবলো হিতেনকে চোর বানাবে। তাহলে হিতেন একবার চোর হলেই, বাতেন হিতেনকে আর বন্ধু বানাবে না। এই পরিকল্পনা করে, রাসেল বাতেনের কলম হিতেনের ব্যাগে রেখে দিলো।

এরপর যখন বাতেন তার কলম খুঁজে পেলো না, তখন ক্লাসের সকলের ব্যাগে সার্চ করলো। একটুপর বাতেন হিতেনের ব্যাগে সার্চ করলো আর কলম পেয়ে গেলো। রাসেল সকলকে বলতেই থাকলো হিতেন কলম চোর। বাতেন হিতেনকে বলল, “তুমি কি সত্যিই আমার কলম চুরি করেছিলে”। হিতেন বলল, “না বন্ধু আমি তোমার কলম চুরি করিনি”।
বাতেন বলল, “আমি রাসেলকে সন্ধ্যেহ করতেছি”।

হিতেন বলল, “আমিও এখন বুঝতে পেলাম যে, রাসেল কেন টিফিনের সময় খাওয়া না করে ক্লাসে কি করতেছিল”।
এবার বাতেন সকলকে বলল, “আমার বন্ধু হিতেন আমার কলম নিয়েছে তাতে সে চোর হবে কেন”। সকল ক্লাসের বন্ধুরা বলল, “তাও ঠিক, সে তো প্রত্যেক দিনই তোমার কলম খাতা নিজের বলে মনে করে”।
বাতেন বলল, “তাহলে কীভাবে হিতেন চোর হলো”।

এই কথা বাতেন সকলকে বলা মাত্রই সকলে আর কিছু বলার সাহস পেলো না।
এই ভাবেই দিন কাটতে লাগলো। হিতেন ও বাতেন কোনোদিন নিজেদের বন্ধুত্তে দাগ লাগাতে দেয় না।
রাসেলের হিংসে জ্বলেপুড়ে মাথা ঠিক রাখতে পারলনা। সে আবারও ভাবলো, হিতেনকে ফাদে ফেলার চেষ্টা করবে।

তাদের স্কুলে অনুষ্ঠান হবে নবিন-বোরন। তাই তাদের প্রধান শিক্ষক বলল, “এবারের অনুষ্ঠান স্কুলের ৩ তোলা ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
এই কথাটা রাসেল জানতে পারলো। আর সে ভাবলো, হিতেনকে ৩ তোলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দিবে। তাই রাসেল অনুষ্ঠানের অপেক্ষা করতে লাগলো। নবিন বরনের দিন চলে আসলো। সকলেই ৩ তোলা ভবনে উপস্থিত হলো। আর এদিকে রাসেল হিতেনকে উপর থেকে ফেলে দেওয়ার কথা ভাবতেছে। মনে মনে বলতেছে বাতেন কখন হিতেনকে রেখে টয়লেটে যাবে। কারণ বাতেন ১ ঘন্টা পরপর টয়লেট যায়।
এবার বাতেন টয়লেটে গেলো। আর এদিকে রাসেল হিতেনকে বলল, “ হিতেন তোমার বন্ধু বাতেন তোমাকে ডাকতেছে”।
হিতেন বলল, “কোথায় সে”?

রাসেল বলল, “আমার সাথে আসো, আমি তোমার বন্ধুর কাছে নিয়ে যাচ্ছি”।
হিতেন ভাবলো ঠিকই তার বন্ধু বাতেন হয়তো তাকে ডাকতেছে। তাই সে রাসেলের সাথে গেলো। যেমনি রাসেল ভবনের গেটে আসলো। সেখানে ছিল একটি ছোট বারান্দা। সেই বারান্দার কোন গিরিল দেওয়া ছিল না। রাসেল হিতেনকে সামনে যেতে বলল। আর রাসেল আরও বলল, “ তোমার বন্ধু বাতেন দেখ নিচ থেকে ডাক দিচ্ছে”।

হিতেন আসতে আসতে বারান্দার নিচে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। এদিকে বাতেন হিতেনকে না দেখতে পেয়ে খুজতে লাগলো। রাসেল যেমনি হিতেনকে ধাক্কা দিবে তখনিই বাতেন হিতেনকে টেনে নেয়। আর রাসেল নিজের ভর সামলাতে না পেরে উপর থেকে নিচে পড়ে যায়। এদিকে সকলে চিৎকার শুনে নিচে আসে। সকলে দেখল রাসেল মারা গেছে। আর রাসেলের চারপাশে রক্ত লেগে আছে।

তো বন্ধুরা কি বুঝলে? হিংসে করা ভালো না।
তবে পড়ালেখায় হিংসে করা যাবে, তাই না!
সকলকে ধন্যবাদ।

Related Posts

9 Comments

  1. খুবই কাঁচা হাতের লেখা সরল গল্প। এবং কিছু বানান ভুলও নজরে পড়েছে। যেমন ‘সন্দেহ’। তবুও লেখকের উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করছি।

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.