রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প হলো পোল্ট্রি শিল্প। এই শিল্পের সাথে জড়িত সকল পোল্ট্র ফার্ম এর জন্য সবচেয়ে ভয়ানক রোগের নাম হলো রানীক্ষেত রোগ। এই রোগকে নিউক্যাসেল ডিজিজ ও বলা হয়ে থাকে।১৯২৬ সালে প্রথম এই রোগ ইন্দোনেশিয়ার জাভা নামক জায়গায় আবিষ্কার হয় এবং পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে ইংলান্ডের নিউক্যাসল নামক জায়গায় এইটা পাওয়া যায় সেই থেকে এর নাম হয়েছে নিউক্যাসল ডিজিজ। এশিয়া মহাদেশে প্রথম ভারতের রানীক্ষেত নামক জায়গায় এই রোধ ধরা পরে এবং সেই থেকে এই রোগ রানীক্ষেত নামে পরিচিতি লাভ করে।

রানীক্ষেত রোগ ভাইরাস জনিত অতি সংক্রামক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে অনেক সময় কোনো ধরনের লক্ষন প্রকাশ ছাড়ায় ফার্মের সকল মুরগী মারা যেতে পারে এবং খামারী লসের সম্মুখীন হয়।

এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী ভাইরাস হলো নিউক্যাসল ডিজিজ ভাইরাস, এটি একটি প্যারামিক্সোভাইরাস।

রানীক্ষেত রোগের লক্ষন সমূহ কি কি?

১।এই রোগে আক্রান্ত মুরগীর তিনটি স্তরে আক্রান্ত করে থাকে সেগুলো হলো শ্বাসতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র।

২।শ্বাসতন্ত্রে আক্রমনের ফলে মুরগী সহজে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারে না এবং অনেক সময়  হা করে থাকে।

৩।স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমনের ফলে মুরগী তার ঘাড় বাকা করে ঝিমাতে থাকে।

৪।এবং পরিপাকতন্ত্রে আক্রমনের ফলে সাদা চুনের মত পায়খানা করে।

৫।এছাড়া আক্রান্ত মুরগী খাবার গ্রহনে অনিহা প্রকাশ করে এবং অনেক সময় তার ডানা অবশ হয়ে নিচের দিকে ঝুলে এক সাইডে গিয়ে ঝিমাতে দেখা যায়।

৬।অনেকক্ষেত্রে রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত মুরগী প্যারালাইসিস হয়ে যায়।

৭।লেয়ার মুরগীর ক্ষেত্রে এই রোগের ফলে ডিমের উৎপাদন কমে যায় এবং ডিমের খোসা অনেক পাতলা হয়ে যাওয়ায় সহজে ডিম ভেংগে যায়।

এইবার জানা যাক কিভাবে এই রোগ ছড়ায় এবং রানীক্ষেত রোগের চিকিৎসা

সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত মুরগীর শ্বাস প্রশ্বাস,পালক,মল,নাসাল ডিসচার্জ এর মাধ্যমে এক মুরগী থেকে আরেক মুরগীতে সংক্রমিত হতে পারে।খামারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি,লিটার অন্য ফার্মে ব্যবহার করলে সেক্ষত্রে ও এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় দেখা গেছে একটা অঞ্চলের সকল মুরগী ফার্ম আক্রান্ত হয়ে গেছে বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে।

এই রোগ থেকে পরিত্রান পেতে হলে অবশ্যই আগে থেকে নিউক্যাসল ডিজিজ এর ভাক্সিন দিতে হবে। বাংলাদেশে বিসিআরডিভি নামক ভাক্সিন ব্যবহার হয়ে থাকে।

কোনো ফার্মে এই রোগের লক্ষন দেখা দিলে প্রথমেই আক্রান্ত মুরগী গুলোকে আলাদা করে ফেলতে হবে এবং সেই ফার্মের ব্যবহৃত জিনিস ভালোমত জীবানুনাশক দিয়ে স্প্রে এবং ওয়াশ করে অন্য ফার্মে ব্যবহার করতে হবে।মৃত মুরগী গুলোকে পুড়ে ফেলতে হবে অথবা ভালোভাবে মাটি চাপা দিতে হবে।

ফার্মে সঠিক জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমেই শুধু এই রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব কারন এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই।খামারে বাহির থেকে যেন বন্য প্রানী বা হাস না আসতে পারে সেদিকে খেয়াল দিতে হবে কারন তারা এই ভাইরাস বহন করে খামারে নিয়ে আসতে পারে।

পরিশেষে এই রোগের লক্ষনসমূহ দেখা দিলে ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কিছুটা ক্ষতি কমার সম্ভাবনা থাকবে।

এই ছিল আজকের রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা । সকল খামারী ভাইদের উদ্দেশ্য আবারো সঠিক বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা পালনের অনুরোধ করে আজ এই পর্যন্তয়।যদি কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমি চেষ্টা করব সেটার উত্তর দিতে।

Related Posts

17 Comments

Leave a Reply