আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমি আপনাদের বলতে যাচ্ছি মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার নিয়ম, মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা। তো আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।
মার্তৃত্বকালীন ভাতা কি?
০ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির ৯০% সাধিত হয়। এসময় শিশু খুবই দ্রুত বেগে বড় হতে থাকে। কথা বলা, হাঁটা শেখা, লম্বা হওয়া, সঠিক ওজন বজায় রাখা এক কথায় শিশুর বড় হওয়ার একটি বড় অংশ হচ্ছে তার শৈশব। শিশুর যাতে ভালোভাবে বৃদ্ধি ঘটার জন্য তার পুষ্টির প্রয়োজন।
তাই শিশুর পুষ্টি সাধনের জন্যই মূলত এই ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাসরত ২০-৩৫ বছরের মধ্যে ১ম অথবা ২য় গর্ভধারণকারী হতদরিদ্র মাতাগণ মার্তৃত্বকালীন ভাতা পাবেন। হতদরিদ্র বলতে তার মোট মাসিক আয় ২০০০ টাকার কম হতে হবে। এই ভাতা কারা দেয়? সোজা উত্তর সরকার। আর একটু বিস্তারিত বললে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতদরিদ্র মাতাগণকে মাসিক নির্ধারিত ৫০০ টাকা করে দিবে। বাংলাদেশ সরকার মাসিক ৫০০ টাকা হারে প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর করে ৪ বার বা ২৪ মাস ভাতা প্রদান করে থাকে।
অর্থাৎ প্রতি ছয়ামস অন্তর আপনাকে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই ভাতার মেয়াদ ২ বছর। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শিশুর জন্মের ২ বছর পর্যন্ত। এই মার্তৃত্বকালীন ভাতার মেয়াদ ৩ বছর করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সন্তান জন্মের পর ৩ বছর পর্যন্ত তারা ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলেও আমার মতে এটি যথেষ্ট নয়। আমি আগেও বলেছি একটি শিশুর গঠনমূলক শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে ৫ বছর পর্যন্ত। তাই এই মার্তৃত্বকালীন ভাতার মেয়াদ ৫ বছর করা জরুরি। তার পাশাপাশি এই ভাতার টাকাও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রায় ৮ লক্ষ হতদরিদ্র নারীদের মার্তৃত্বকালীন ভাতার আওতায় ভাতা পাচ্ছেন।
মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার নিয়ম
ভাতা পাওয়ার যোগ্যতাঃ আপনি নিম্নোক্ত অবস্থায় থাকলে আপনাকে মার্তৃত্বকালীন ভাতার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ক. প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকাল (যেকোনো একবার)
খ. বয়স কমপক্ষে ২০ বছর বা তার ঊর্ধ্বে
গ. মোট মাসিক আয় ২,০০০/- টাকার নিম্নে
ঘ. দরিদ্র প্রতিবন্ধী মা অগ্রাধিকার পাবেন
ঙ. কেবল বসতবাড়ি রয়েছে বা অন্যের জায়গায় বাস করে
চ. নিজের বা পরিবারের কোনো কৃষি জমি, মৎস্য চাষের জন্য পুকু নেই
ছ. উপকারভোগী নির্বাচনের সময় অর্থাৎ জুলাই মাসে উপকারভোগীকে অবশ্যই গর্ভবতী থাকতে হবে
জ. প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভের সন্তান গর্ভাবস্থায় বা জন্মের ২ (দুই) বছরের মধ্যে মারা গেলে তৃতীয় গর্ভধারণকালে ভাতা প্রাপ্য হবেন
ঝ. একজন ভাতাভোগী জীবনে একবার ২ (দুই) বছর সময়কালের জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা পাবেন
ঞ. কোনো কারণে সন্তানের মৃত্যু হলে অথবা গর্ভপাতের কারণে নির্দিষ্ট চক্র অসম্পূর্ণ থাকলে তিনি পুনরায় গর্ভবতী হলে পরবর্তীতে ২ (দুই) বছরের মাতৃত্ব ভাতা প্রাপ্য হবেন, যদি অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়ে থাকে।
উপরে বর্ণিত শর্তসমূহের মধ্যে কেউ ক, খ ও ছ সহ কমপক্ষে ৫ (পাঁচ)টি শর্ত পূরণ করলে তার নাম প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অধিকতর দরিদ্র অগ্রাধিকার পাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবেদনকারীর তথ্য MIS অনলাইন সফটওয়্যারে এন্ট্রি করবেন।
মার্তৃত্বকালীন ভাতার আবেদন ফরম
আপনার যদি উপরোক্ত বৈশিষ্টগুলো থাকে তাহলে আপনাকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আপনাকে প্রথমে উপজেলা কমিটি বরাবর আবেদন করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা কমিটি সদস্য সচিব ও সভাপতি এ সংক্রান্ত আবেদনপত্র যাচাই বাছাই করে মঞ্জুরী আদেশ দেন।
নির্ধারিত ফরমে আবেদনের পর অবশ্যই নিম্নোক্ত ফরম মহিলা ও শিশু বিষয়ক কেন্দ্রে তথ্য এন্ট্রি নিশ্চিত করতে হবে। আবেদন ফরমটিতে আপনি কোন অর্থ বছরে আবেদন করছেন দিতে হবে। তারপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামীর নাম, জন্মসাল, ধর্ম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা ও কিছু আর্থ সামাজিক তথ্য দিতে হবে।
ভাতার টাকা চাইলে আপনি নিজে গিয়েও নিয়ে আসতে পারেন তাছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম যেমন বিকাশ, নগদ ইত্যাদি মাধ্যমেও নিতে পারবেন।
তো আজকের জন্য এতটুকুই। আবার কয়েকদিন পর আপনাদের সামনে নতুন কোনো টপিক নিয়ে হাজির হব। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সেই কামনায় আজকের জন্য বিদায় জানাচ্ছি। পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর Facebook Group এর সাথেই থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Nice Topic.
Ok
ভালো লাগলো
সুন্দর পোস্ট,,
ভালো
Good post