ভিডিও এডিটিং দ্বারা অর্থ উপার্জন করার সহজ উপায়

অনলাইনে ভিডিও এডিটরদের চাহিদা সবসময়ের জন্যই রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ভালো ভিডিও এডিট করতে জানেন সেক্ষেত্রে বলা চলে আপনি অবশ্যই কাজ পাবেন যেকোনো ভাবেই।

তবে অনেকের কাছে Video Editing করে আয় করাটা বলা চলে স্বপ্নের মত। কারণটা আমরা যারা ভিডিও এডিটর আছি তারা অবশ্যই জানি। তবে আপনি কি জানেন যদি আপনার ভিডিও এডিটিং ওর উপর দক্ষতা থাকে তাহলে আপনিও একজন সেই দক্ষতা কজে লাগিয়ে অনলাইন অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। হ্যাঁ, বিষয়টা শুনে অনেকের বিশ্বাস না হলেও সত্যি। যদি আপনি ভিডিও এডিট করতে পারেন তবে আপনার জন্য ইনকাম পথ খোলা রয়েছে।

প্রথমে আমরা জানি, ভিডিও এডিটর মূলত কাদের বলা হয়ে থাকে? : এক কথায়, যারা ঘণ্টার পর ঘন্টা ব্যয় করে অনেকগুলো ভিডিও ক্লিপ একসাথে জোড়া দিয়ে, তাতে প্রয়োজনীয় ভয়েস, অ্যানিমেশন, কালার গ্রেডিং ইত্যাদির সমন্বয়ে একটি মূল ভিডিও তৈরি করে তাদের মূলত আমরা ভিডিও এডিটর বলতে পারি। একজন ভিডিও এডিটর জানেন কোন ভিডিও কিভাবে এডিট করতে হয়, কোথায় কি সাউন্ড ব্যবহার করতে হয় বা কালার গ্রেড কিভাবে করতে হয় ইত্যাদি।

ভিডিও এডিটিং দ্বারা অর্থ উপার্জন করার সহজ উপায়ঃ

আমি আপনাদের সাথে সহজ দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, যার দ্বারা আপনারা অন্যের ভিডিও এডিট করে দিয়ে তার বিপরীতে কিছু অর্থ আয় করতে পারেন।

১. প্রথম উপায় হিসেবে আমি আপনাদের বলবো ফেসবুক এর সাহায্য নিন। এটা নিশ্চই আমরা সবাই জানি যে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের মানুষ অ্যাকাউন্ট করে থাকেন। আপনার কাজ হলো ফেসবুকে ভিডিও এডিট বিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হওয়া। এরপর আপনি আপনার যোগ্যতা, নাম ঠিকানা ইত্যাদির সমন্বয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করে সেসব গ্রুপে সেটি শেয়ার করতে পারেন।

এখন গ্রুপে থাকা হাজার হাজার মেম্বারদের মধ্যে যদি কারোর ভিডিও এডিট সার্ভিস এর প্রয়োজন হয় তাহলে সে নিশ্চই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।

২. ফেসবুক গ্রুপে দ্বারা যদি আপনি আপনার কাজের জন্য ক্লায়েন্ট খুঁজে না পান তাহলে আপনি দ্বিতীয় উপায়টি প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

ইউটিউবে দেশ বিদেশের বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রয়েছেন, যারা তাদের ভিডিও এডিট এর জন্য এডিটর খুঁজে থাকেন। এই ধরনের চ্যানেল গুলোতে গিয়ে আপনি তাদের বিজনেস মেইল সংগ্রহ করে তাদের সরাসরি মেইল করতে পারেন।

তবে মেইল করার ক্ষেত্রে অবশ্যই শিরোনাম অ্যাট্রাক্টিভ রাখুন। চেষ্টা করুন প্রফেশনালভাবে একটি মেইল লিখে তারপর সেটি পাঠানোর। মেইল হিসেবে আপনার তৈরি করা পোর্টফোলিও পাঠাতে পারেন। এইভাবে মেইল দ্বারা যোগাযোগ করে আপনি তার সাথে ভিডিও এডিট এর বিষয়ে বিস্তারিত বলে নিতে পারেন এবং আপনার কাজ ভালো হলে সে আপনাকে ভিডিও এডিট করার কাজ দিতে পারে।

৩. উপরের দুটি উপায় চেষ্টা করার পরও যারা কাজ পাবেন না তাদের জন্য এই উপায়টি বেশ কার্যকরী হবে। আমরা মূলত কথা বলছি Fiverr নিয়ে। ফাইবার এর বিষয়ে নতুন করে বলার মত কিছু নেই। বিভিন্ন বড় বির ফ্রিল্যান্সার এই ওয়েবসাইটে কাজ করছে।

ফাইবার সাইটে আপনি ভিডিও এডিটর হিসেবে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন এবং আপনার দক্ষতা সেখানে শেয়ার করতে পারেন। যদি কারো আপনার কাজ ভালো লাগে তাহলে সে আপনাকে কাজ দেবে অবশ্যই। সর্বনিম্ন ৫ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ৪০০ টাকার মতো একটি ভিডিও প্রতি আপনি পেয়ে যেতে পারেন।

আপনার কাজ যত ভালো হবে আপনি সে অনুযায়ী অর্থ এখান থেকে আয় করতে পারবেন।

এই তিনটি সহজ কৌশল দ্বারা আপনি Video Editing এর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। আল্লাহ হাফেজ

Related Posts

6 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.