বড় মা ও রাকেশ

 বড় মা ও রাকেশ

আমরা বড় মার জন্য দুই দিন অপেক্ষা করলাম কিন্তু তিনি তারা ফিরলেন না,, দ্বিতীয় দিন রাতে আমরা অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি,, বাইরে চলছিল প্রকৃতির ভয়ানক লীলা খেলা,, গাছ পালা যেনো ঝড়ের তান্ডবে ভেঙে পড়ছিল,,
সেই সময় হঠাৎ করে দরজায় দুমদাম আওয়াজ হতে লাগলো, মনে হয় বাইরে কেউ তার অসুরে শক্তি দিয়েই সেটি ভেঙে ফেলবে,, সেই সময় আসলাম বাইরের আগন্তুক কে সেটা জানার জন্য হাঁক দিলো,, কিন্তু বাইরে থেকে কোনও আওয়াজ আসলো না, একটু পর কেউ একজন গম্ভীর গলায় জবাব দিলো আমরা ঝড়ের প্রকোপে পথ হারিয়ে যাওয়া পথিক, দয়া করে যদি আমাদের আজ রাতের জন্য আশ্রয় দিতেন তাহলে অনেক উপকার হতো,,

আসলাম সরল মনে দরজা খুলে দিলো, কিন্তু সেটাই ছিল ওর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, আমরা ভেবেছিলাম যে সত্যি কোনো মানুষ বিপদে পড়েছে আর বিপদে একজন আরেকজনকে সাহায্য করা মানুষের ধর্ম, কিন্তু আমাদের সেই বিশ্বাস কে ভেঙে দিয়ে হুরমুর করে বাড়িতে ঢুকে পড়লো কয়েকটা ডাকাত, আর তারা সংখ্যায় ছিল দশ জন, তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র,, আর তারা ঘরে ঢুকেই প্রথমে আসলাম কে বেঁধে ফেললো,, আর তার পর তারা একে একে আমাদের সবাইকে বেঁধে ফেললো,, সুমন ওই ডাকাত সর্দার কে দেখে কেমন যেন করতে লাগলো, কিন্তু তার মুখ বন্ধ থাকায় সে কিছুই বলতে পারছিল না, আর ওই দিকে ওই ডাকাত সর্দার এর নাম ছিল লালু সর্দার,, অনেক কুখ্যাত একটা ডাকাত ছিল সে, অনেক মানুষ কে খুন করা থেকে শুরু করে পথের ভিখারি বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে,,
এর পর সেই ডাকাত সর্দার পুরো বাড়িতে তার লোক ছড়িয়ে দিয়ে দেখলো আর কেউ আছে কিনা এই বাড়িতে, যখন দেখলো আর কেউ নেই এই বাড়িতে তখন সে আসলাম এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো, আর বললো,,
বলে ফেল এই বাড়িতে আর কারা কারা থাকে, আসলাম অনেক কঠিন ভাষায় জবাব দিলো শুধু আমরাই থাকি,
তার জবাব শুনে লালু সর্দার রেগে গিয়ে আসলাম কে চাবুক
দিয়ে মারতে শুরু করলো,
আসলাম এর চিৎকার শুনে পুরো বাড়ি কাঁপতে লাগলো, কিন্তু ওই পাষানদের হৃদয় গললো না, তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো আমাদের সাথে রাগী আওয়াজে কথা বলিস, তোর সাহস তো কম নয়, এইবার বল, এই কোথায় আছে সোনা দানা,
কোথায় আছে সব কিছু, তাড়াতাড়ি করে বল,

বড় মার কাছে তার বাপের বাড়ি থেকে পাওয়া অনেক সোনা আর টাকা পয়সা ছিল, কিন্তু তিনি যে আমাদের এই বাড়ির রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, সেটা আমরা ভুলে যাবো কি করে, আমাদের ওই ডাকাত গুলো মেরে ফেললেও আমরা বলতাম না কোথায় আছে ওই গুলো,
তেমনি আসলামো মুখ খোলে নি, তার চুপ থাকা দেখে লালু সর্দার আরো রেগে যায়, আর হাতের রাম দাঁ দিয়ে এক কোপে আসলাম এর ঘাড় থেকে তার মাথা আলাদা করে দেয়,,
এই নৃশংস দৃশ্য আমি দেখতে না পেরে ঙান হারাই,
যখন চোখ খোলে তখন আমি দেখতে পাই কোনো মানুষ রুপি এক শয়তান আমার দেহ ভোগ করায় ব্যাস্ত, তার চোখে ছিল লালসা, যেখানে ছিল শুধু আমাকে ভোগ করার ইচ্ছা, কিন্তু সে কি ভোগ না করে ছাড়ে,, আমার দুর্বল হাত বার বার সেই জানোয়ার টাকে সরানোর চেষ্টা করে যায়, কিন্তু ওর অসুরের শক্তির সাথে পেরে উঠে না,,
এই ভাবে একে একে দশ জন পুরো রাত ভর আমার দেহ ভোগ করার আদিম খেলায় মেতে ওঠে,,

আমি শুধু নির্বিকার ভাবে বার বার ঙ্গান হারাচ্ছিলাম,, শেষ বার যখন আমার হুস ফেরে তখন বাইরে সবার হাসি ঠাট্টার শব্দ কানে আসে, অনেক কষ্টে, যন্ত্রণা সহ্য করে ঘর থেকে বের হয়ে আসি,, দূরে তাকিয়ে দেখি সুমন সেখানে বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে, অনেক কষ্টে তার দিকে এগিয়ে গেলাম, গিয়ে তার হাতের বাঁধন খুলে দিলাম, সে ছাড়া পেয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো, সেই শব্দ ওই জানোয়ার রা শুনে আমাদের দিকে এগিয়ে এলো আর আমাদের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হাসতে লাগলো, আর তারা একটা বাক্স দেখাতে লাগলো,,

আমি সেটা চিনতে পারলাম, সেটি ছিল বড় মার টাকা রাখার বাক্স,, তার মানে ওরা সেই টাকা পেয়ে গিয়েছিল, যার জন্য প্রাণ দিতে হয় আসলাম কে আর আর সতিত্ত্ব হারাতে হয় তোমাকে, নির্লিপ্ত জবাব সাদিকের,
তিথী বললো আমার কথা এখনো শেষ হয় নি,,

তার পর তারা আমার সামনে থেকে সুমম কে টানতে টানতে নিয়ে যায়,, আমার কিছুই করার ছিল না কারণ আমার গায়ে যে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না,, তাই আমার শুধু দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না, সুমন হঠাৎ করে একজনের হাতে কামড় বসিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে,, কিন্তু তার পিছন থেকে সে সুমন এর পিঠে তলোয়ার চালিয়ে দেয়,, মুহূর্তের মধ্যেই রক্তে লাল হয়ে যায় বাড়ির এই উঠোন, আর আসলাম এর মৃত দেহ পর্যন্ত সুমন এর রক্ত গড়িয়ে যায়,
আমি সেই দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যে পাথর হয়ে যাই,,
লালু সর্দার বলে একেও মেরে দে, ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে,, বলেই একজন আমার দিকে তলোয়ার হাতে এগিয়ে আসে,,
আমি চোখ বন্ধ করে নেই,, তার পর আমার আর কিছুই মনে নেই,,

তিথীর কথা শুনে সাদিক রা শুধু নীরবে চোখের জল ফেলছিল, তারা মনে মনে এই সব দৃশ্য কল্পনা করেই নিজেরা বারবার শিউরে ওঠছিল,,

তিথি আবার বলতে শুরু করলো,,
আমি চোখ মেলে দেখি আমার সামনে আসলাম সুমন দাঁড়িয়ে আছে, আমি সুমন কে জড়িয়ে ধরে বলি তুই এখনও বেঁচে আছিস আর আসলাম কে দেখে আমি আরো অবাক হয়ে যাই, কারণ তার কাটা মাথাও একদম ঠিক ছিল,

তখন তারা আমাকে যা বলে তা শুনে আমার মাথা ঘুরে যায়,, আমি বিশ্বাস করতে চাই নি যে আমি মরে গেছি, কিন্তু আমি যখন দেখলাম ওই ডাকাত রা আমাদের লাশ বাড়ির পিছনে পুঁতে দিচ্ছে তখন আমার বিশ্বাস হলো,, ঠিক সেই সময় আমরা দেখলাম কিছু গ্রামের লোক ঘাড়ে করে দুটো বাক্স নিয়ে আসছে,, কিন্তু বাড়ির সামনে আসতেই ডাকাত রা তাদের দেখে ফেলে আর তাদের আক্রমন করে সবাইকে মেরে ফেলে আর গর্ত করে ওই বাক্স সহ সবাইকে পুঁতে ফেলে,, আমরা তখন ছিলাম শুধুমাত্র ছায়া,,
তার পর আমার মাথায় আসলো আমরা তো আত্মা যাকে সাধারণ কেউ দেখতে পায় না কিন্তু তাদের দেখে ভয় পায়, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাই আর ওদের ভয় দেখাতে শুরু করি, আস্তে আস্তে তাদের এই বাড়িতে আটকিয়ে দেই তার পর তাদের পাগল বানিয়ে নৃশংস ভাবে তাদের খুন করি,,
সেই থেকে আমরা বড় মার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি, আজ পঞ্চাশ বছর হলো কিন্তু তারা এলো না,, যতদিন তারা না আসবে ততদিন আমাদের মুক্তি নেই,,, যদি আমরা তাদের সেই অর্থের কথা বলে দিতাম তাহলে হয়তো আমরা জীবিত থাকতাম, বলেই চুপ হয়ে গেলো তিথি,,সে আবার বললো যে আমাদের বিশ্বাস করে এই বাড়ির দায়িত্ব দিয়ে গেছে তা আমরা ভাঙতে পারি না,,

সাদিক কিছু বলতে গিয়েও চুপ হয়ে গেলো, কারণ এদের প্রমাণ ছাড়া যদি বলা হয় বড় মা আর রাকেশ এই দুনিয়ায় নেই।।।।।।

Related Posts

4 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.