দানশীল রাজার এক গল্প (পর্ব-দুই)

রাজা যখন তার বিবি বাচ্চা সব হারিয়ে ফেলল,তখন তিনি অন্য আরেক দেশে চলে গেলো । সে প্রায় ১০ বা ১২ বছর ওই দেশের একটি জজ্ঞলে বাসাবাস করতে লাগলো। তার চেহারা সুরত সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেলো । তার চুল দাড়ি অনেক বড় হয়ে গেলো , তাই তাকে দেখতে একেবারে পাগলের মত হয়ে গেলো । 

এইদিকে তিনি যেই দেশে থাকতে লাগলেন সেই দেশের রাজা মারা গেছেন। ওই দেশটি এখন শুধু ওই দেশের রানী রাজত্ব করতেছে। তাই তার মন্ত্রীসভা সবাই বলল আপনি একটি বিবাহ করে নিন । মন্ত্রীরা ভাবলো রানী তাদের মধ্যে থেকে কাউকে নির্বাচন করবে । রানী তখন তাদের বললো আচ্ছা ঠিক আছে । তোমরা সবাই মিলে একটি বড় মাঠে দেশের সকল মানূষকে একাত্রিত করো , এবং আমার ঘোড়ার গলায় একটি ফুলের মালা দিতে বলল । ঘোড়াটি যার গলায় ফুলের মালাটি দিবে সেই হবে এই দেশের নতুন রাজা । 

রানীর কথামত সব মানূষকে একাত্রিত করা হলো । সেখানে ওই রাজাও ছিলো । রানীর ঘোড়াটি মাঠের চারদিক ঘুরে তার মালাটা সেই রাজা গলায় দিয়ে দেয় । যাকে তখন পুরো পাগলের মত দেখতে  লাগছিলো । মন্ত্রীরা বলে উঠলো রানীমা আপনি কি এই পাগলকে বিবাহ করবেন। আপনি কিভাবে এই পাগলকে রাজা বানাবেন সেত ক্ষমতার কিছু্ুই বুঝেনা । রানী তখন বলল , শুনো মন্ত্রীসভা হাকীম নড়ে কিন্তু হুকুম কিছুতেই নড়তে পারেনা । আমি এই পাগলকে বিয়ে করব ।  পরে সবাই তাকে ধরে রাজপাসাদে নিয়ে গেলো এবং তাকে গোসল করিয়ে সুন্দর করে রাজ পোষাক গায়ে দিয়ে তাক বিবাহের জন্য তৈরি করেছে । তার সাথে রানীর বিবাহ হয়েছে । এখন শুধু রাজা দেশ ফিরে পেয়েছে । 

এবার রাজার  দেহ রক্ষী হিসেবে দুই যুবক প্রয়োজন তাই  মন্ত্রীকে আদেশ দিয়েছে রাজর জন্য দুই শক্তিশালী যুবক বের করার জন্য । রাজার কথামত  দুই জন শক্তিশালী যুবক খুজে পেয়েছে। এখন   মরে যাওয়া রাজার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো সে জানতনা যে  তার  বন্ধু মারা গিয়েছে । সে তার বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য তার রাজ্য গিয়ে সব ঘটনা শুনতে পায় । রাজা পুর্বের রাজার বন্ধু হিসেবে তাই তাকে আজ রাত সেখানে বেড়াতে বলেন। তখন তিনি বলেন আমি থাকতে পারবোনা  । রাজা জিজ্ঞাস করলেন কেন তখন সে বলল , আসলে নদীর ধারে নৌাকতে আমার এক মেয়েকে আমি রেখে আসছি । সে  ওখানে এক একা রয়েছে তার হয়ত কোন বিপদ হতে পারে আমি আজ চলে যাই । রাজা তখন আপনি কোন চিন্তা করবেন না আমি আমার দুই দেহ রক্ষীকে তার কাছে পাঠাচ্ছি । 

রাজা তার দুই দেহ রক্ষীকে সেখানে পাঠালেন । সেখান গিয়ে দুই জনের সময় কাটছেনা বলে তারা একে অপরকে বলে আচ্ছা আমরা দুই জন এক জায়গায় বসে গল্প করি তখন তারা বলল ঠিক আছে । তাদের মধ্যে যে বড় সে বলে আমি আমার জিবনের কাহিনী বলি । তখন ছোট যুবক বলল , আচ্ছা শুনাও দেখি তোমার জিবনের কাহিনী । 

তখন সে বলল , আসলে আমি হলাম একজন রাজপুত্র । আমার বাবা একজন ধোকাবাজের পাল্লায় পড়ে তাকে দেশ হয়েছে । এমনি ভাবে সে আগের সব কথা বলেছে যা আমি গল্পের আগের পাঠে বলেছি। যখন আমাকে বাঘে ধরছিল , তখন একটি লোক আমাকে বাচালো । অন্য ছেলেটি বলল আমারও তো ঠিক ঘটনা । আমি আমার বাবার হাত থেকে নদীতে পড়ে গেছি । পরে   একজন লোকের মাছের জালের মধ্যে আমি উঠেছি । এবং সেই আমাক লালন পালন করে । 

তারা দুইজন বুজতে পারলো তারা দুইজন আপন ভাই । তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো । সকাল হওয়ার পর নৌকার মহিলাটি বলল । আমি রাজার সাথে দেখা করবো । সে রাজার সাথে দেখা করার পর সে বলে আমি কাল রাতের সব ঘটনা শুনেছি  । এরা আমার সন্তান । রাজা বলে কিভাবে এরা সন্তান । মহিলাটি আমার স্বামী একজন রাজা আসলে আমার স্বামীর সাথে অনেক ঘটনা ঘটেছে । মহিলাটি কিভাবে তার স্বামী দেশ ছেড়েছে তা বলেছে । যাহা আপনারা আগের পর্বে  পড়েছেন । রাজা বলল ,সেই লোক আর কেহ নই আমি সেই রাজা । এভাবে রাজা তার বিবি বাচ্ছা দেশ সব কিছু আবার পেয়ে গেছে। 

এবার শুধু একটা কথাই বাকী থাকে কিভাবে ওই ফকিরকে শাস্তি দেওয়া যায় । রাজা তার পরের স্ত্রীকে ও তার এক ছেলেকে এদেশের রাজত্ব দিয়ে ।নিজের আগের দেশে ফিরে যাওয়ার  প্রস্থুতি নেন । এবং ওই ফকিরের জন্য যুদ্ধ বাহিনী নিয়ে যান । যখন ফকির জানতে পারলো আগের রাজা তার দেশ আবার দখলের জন্য আসতেছে তখন সে পালিয়ে যায় কেনান সে যুদ্ধের কোন কৌশল জানেনা । এভাবে রাজা সব কিছু ফিরে পান । 

বন্ধুরা গল্পটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন । 

                                                     ধন্যবাদ

Related Posts

36 Comments

Leave a Reply

⚠️

Ad Blocker Detected

Our website uses advanced technology to provide you with free content. Please disable your Ad Blocker or whitelist our site to continue.